সর্বশেষ

বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসহাব উদ্দিন - সাধারণ সম্পাদক আলমগীর

রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসহাব উদ্দিন - সাধারণ সম্পাদক আলমগীর






বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রত্না পালং ইউনিয়ন শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে 


১৮ মে বুধবার প্রথম অধিবেশন কোটবাজার দক্ষিণ স্টেশনে ও দ্বিতীয় অধিবেশন একই দিনে বিকেল ৪ টায় পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় হল রুমে ২৫০ জন কাউন্সিল তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে


কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি পদে দুইজন সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও দুজনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় ,  অপর একজন ছৈয়দ মুহাম্মদ নোমান কে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।



রত্নাপালং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আছহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সন্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌর মেয়র মজিবুর রহমান, উখিয়া-টেকনাফ সাংগঠনিক টিমের প্রধান ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম (প্রকাশ রাজা শাহ আলম), উখিয়া-টেকনাফ সাংগঠনিক টিমের উপ-প্রধান এডভোকেট রনজিত দাশ , সাংগঠনিক টিমের সদস্য সচিব ও জেলা আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এএইচ ইউনুছ বাঙ্গালি, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য কবি আদিল উদ্দিন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবুল মনসুর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইস্কান্দার মির্জা চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী,  রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, যারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত তারাও আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে পারবে না। তিনি সকল স্তরের নেতাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলার আহবান। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ, তারা কখনো আওয়ামী লীগকে কাঠগড়ায় দাড় করাবে না। আর যারা নেতাদের ডিঙ্গিয়ে আওয়ামীলীগকে আদালত পাড়ায় নিয়ে যাবেন, বুঝতে হবে তারা আওয়ামীলীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা খন্দকার মোস্তাকদের বংশধর। তিনি বলেন, সন্মেলনের অর্থ শুদ্ধি অভিযান। এই শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামীলীগ থেকে বিতাড়িত করার আহবান জানান।


কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে আসহাব উদ্দিন ছাতা মার্কা ১৪১ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল আলা চৌধুরী আনারস মার্কা ১০২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর ফুটবল মার্কায়  ১৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আব্দুল গফুর মাইক মার্কা ১১৪ ভোট। কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে উখিয়া-টেকনাফ সাংগঠনিক টিমের প্রধান শাহ আলম প্রকাশ রাজা শাহ আলম ফলাফল ঘোষণা করেন।

কক্সবাজারে ৭ প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ দশ হাজার টাকা জরিমানা!

কক্সবাজারে ৭ প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ দশ হাজার টাকা জরিমানা!

কক্সবাজার জার্নাল









ওজনে কারচুপি ও নকল—নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রির দায়ে আপন ট্রেডিংসহ ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১৮ মে দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই অভিযান চালায় র‌্যাব—১৫।


র‌্যাব—১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ বিল্লাল উদ্দিন জানান, কক্সবাজারে বিভিন্ন দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ, নকল, নিষিদ্ধ প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি এবং বিভিন্ন উপায়ে ওজনে কারচুপি করা হচ্ছে। যার ফলে মানুষ বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।


তাই অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরতে র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে র‌্যাব—১৫ এর একটি আভিযানিক দল রামু, লিংকরোড, হিমছড়ি এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে।


অভিযানে ওজনে কারচুপি করে প্রতারণার দায়ে আপন ট্রেডিংকে ৫০ হাজার, নিষিদ্ধ ও নকল পণ্য বিক্রির দায়ে নুরু স্টোরকে ১০ হাজার, সেলিম স্টোরকে ১০ হাজার, বাবর স্টোরকে ১০ হাজার, করিম স্টোরকে ১০ হাজার, মামুন স্টোরকে ১০ হাজার, মুসা এন্ড ব্রাদার্সকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও মামলা দায়ের করা হয়।


অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে তাপদাহে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

কক্সবাজারে তাপদাহে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

কক্সবাজার জার্নাল









কক্সবাজারে তাপদাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ১ সপ্তাহে ৩০০ জন ডায়রিয়া রোগী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন।


কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেশি।


মঙ্গলবার (১৭ মে) বয়স্ক ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৪৫ জন ভর্তি ছিলেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন।


ইনানীর বাসিন্দা ফয়জুল হাকিম বলেন, দুই দিন ধরে রোগী নিয়ে হাসপাতালে আছেন। অতিরিক্ত গরমে স্ত্রী ও ছোট ছেলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। একসঙ্গে পরিবারের দুই সদস্যের ডায়রিয়া হওয়ায় সবাই অনেক কষ্ট পাচ্ছে।


সদরের উত্তর ডিক্কুল এলাকার ফেরদৌস হাসান ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চার দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি আজ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘কয়েকদিনে দেখলাম প্রতিদিন অনেক ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে।’


কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া বেড়ে চলছে। কক্সবাজারে উপকূলীয় অঞ্চলে অনেক গভীর থেকেও যে পানি পাওয়া যায়, তাতেও লবণের অস্তিত্ব থাকে। ফলে সেই পানি পেটে গেলে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।


মেডিকেল অফিসার জানান, হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে পানিশূন্যতাসহ অনেকেই এ সময় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন শিশু ও বয়স্ক নারী-পুরুষ ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে বয়স্ক ওয়ার্ডে ৪৫ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছে। আর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৪০ জনের মতো। প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরছে।


তীব্র গরমে অনিরাপদ পানি পান না করে নিরাপদ পানি ব্যবহার করলে ডায়রিয়া রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে এমনটাই বলছেন ডা. শায়লা। লোকজন যদি ডায়রিয়া থেকে একদম দূরে থাকতে চায়, তবে রান্না ও গৃহস্থলির কাজেও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিকল্প নেই বলে জানান এই মেডিকেল অফিসার।


কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের প্রধান আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ মিয়া জানান, কক্সবাজারে প্রতিদিন তাপমাত্রা ৩৩-৩৬ ডিগ্রি থাকছে। সোমবার তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। তবে আজকের তাপমাত্রা ৩৬ এর কাছাকাছি হতে পারে।


তিনি জানান, কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে বৃষ্টিপাত হলেও এই গরমটা থাকবে। এই মাসের শেষে করে মৌসুমী বায়ু শুরু হতে পারে। মৌসুমী বায়ু শুরু হলে গরম কমে যাবে

কক্সবাজারে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

কক্সবাজারে দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার






কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫


১৬ মে সোমবার র‌্যাব-১৫ জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার শহর ও টেকনাফের লেদা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত আসামীদের আটক করা হয়।


আটককৃতরা হলো- কক্সবাজার পৌরসভার পশ্চিম ঘোনারপাড়ার মাহাবুব আলম এর পুত্র মোহাম্মদ শাকিল ইসলাম ওরফে বাবু (২৬) এবং টেকনাফের পূর্ব মহেশখালীয়াপাড়ার নজির আহমেদ এর পুত্র মোঃ জালাল উদ্দিন ওরফে লেদাইয়া (৩৪)।


র‌্যাব-১৫ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদের সংক্রান্তে পূর্বের মামলা মোতাবেক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২

কক্সবাজারে দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার

কক্সবাজারে দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার






কক্সবাজার শহরের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫।


আটককৃতরা হলো- কক্সবাজার পৌরসভার ১২ ওয়ার্ড সুগন্ধা সৈকতপাড়া, সেলিনা অটো-রিকশার গ্যারেজে বাসকারী টেকনাফের উলিয়াবাদ ৪নং ওয়ার্ড এর জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র বিক্রম ওরফে জসিম (৩৫) এবং কক্সবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড পেশকার পাড়া কাজী জুনায়েত এর বাড়ির ভাড়াটিয়া টেকনাফ সদরের ৭নং ওয়ার্ড কলেজপাড়ার নবী হোসেনের পুত্র মোঃ রুবেল (২৮)।


র‌্যাব-১৫ জানায়,১৬মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা অবগত হয় যে, কক্সবাজার কলাতলীর সুগন্ধা বীচ সংলগ্ন বায়তুল মা’মুর জামে মসজিদের মূল গেইটের সামনে কতিপয় অপরাধী মাদকদ্রব্য বিক্রয় এবং চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করার জন্য ঘোরাফেরা করছে।


তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল রাত ১১টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুইজন ব্যক্তি পলায়নের চেষ্টাকালে গ্রেফতার করে।


এসময় উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশী করে ৮ পুরিয়া গাঁজা, ১টি ছুরি ও ১ টি চাকু উদ্ধার করা হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা পেশাদার ছিনতাইকারী ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করে নিজেদের দখলে ছুরি, চাকু (অস্ত্র) রেখে লোকজনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাত দানের মাধ্যেমে চুরি, ছিনতাই ইত্যাদি অপরাধমূলক কার্যক্রম করে থাকে।


র‌্যাব-১৫ আরও জানায়,গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।



কক্সবাজার জার্নাল

কক্সবাজারে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে ৬ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

কক্সবাজারে র‍্যাবের পৃথক অভিযানে ৬ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার






কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৬ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫


১৬ মে সোমবার র‌্যাব-১৫ জানায়,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার শহর ও সদরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এজাহারভুক্ত আসামীদের আটক করা হয়।


আটককৃতরা হলো- কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড মধ্যম বাহারছড়ার নুরুল হুদার পুত্র মোঃ নাঈমুল হুদা ওরফে নাঈম (২৫), শহরের বাদশাঘোনার মৃত হোছেন এর পুত্র জাফর আলম (২৬),একই এলাকার মোজাহের আহম্মদ এর পুত্র মিজান (২৯),শহরের বৈদ্যর ঘোনারপাড়ার মোঃ ইমাম হোসেন ওরফে আমির হোসেন (৩৭),সদরের খুরুশকুল ৯নং ওয়ার্ড এর মোঃ আলম ওরফে মা আলম মাঝির পুত্র মোঃ জুয়েল (২৪) এবং একই এলাকার মোঃ হাবিব (৩৫)


র‌্যাব-১৫ আরও জানায়,গ্রেফতারকৃত আসামী সংক্রান্তে পূর্বের মামলা মোতাবেক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



কক্সবাজার জার্নাল

আঘাতপ্রাপ্ত কোমর ও ভাঙ্গা হাত-পা নিয়ে প্রখর রোদে এক অসহায় নারীর আর্তনাদ

আঘাতপ্রাপ্ত কোমর ও ভাঙ্গা হাত-পা নিয়ে প্রখর রোদে এক অসহায় নারীর আর্তনাদ





কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার। ভালোবেসে নবী হোসেন নামের একজনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সম্পর্ক করে বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়। আলাদা সংসার গড়ে তোলেন তারা। হঠাৎ তার স্বামী নবী হোসেনের লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে। তার এক ছেলেও রোগাক্রান্ত। ছেলে ও স্বামীর চিকিৎসার জন্য নিজের সবকিছু বিক্রি করে দেন নাজমা। তাতে কোনো ফল পাননি। উল্টো তাদের ঘরে নেমে আসে অভাব-অনাটন। সব হারিয়ে হয়ে পড়েন দিশেহারা।

একপর্যায়ে জীবনের তাড়নায় লোকলজ্জা ভুলে তিন মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে সৈকতে আচার বিক্রি শুরু করেন। গত ১০-১২ দিন ধরে তাকে সৈকতে ভ্যানে আমের আচার বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে তার এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আশপাশের মানুষের নানা মন্তব্য। এতে কান না দিয়ে আচার বিক্রি করে যাচ্ছেন নাজমা।

কথা হয় তার সঙ্গে। নাজমা বলেন, বিয়ের পর বেশ কয়েকবছর সুখের সংসার করেছি। এক কঠিন রোগ আমাদের সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে। আমি নিজেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছি। কোমরে আঘাত, এক পা ভাঙা। ওই পায়ে সার্জারি করে লাগানো রড রয়েছে, এক হাত ভাঙা। তবু কোনোমতে জীবন-জীবিকার তাগিদে সেই আঘাত প্রাপ্ত শরীর নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।

কথার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ভিক্ষা না করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আমার তিন মাসের শিশুকে নিয়ে আমের আচার বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও আশপাশের মানুষ অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করছে। এটার চেয়ে দুঃখের আর কি হতে পারে একটা নারীর জীবনে।

নাজমা জানান, প্রতিদিন সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে আম বিক্রি থেকে ৩০০-৪০০ টাকা আয়-রোজগার হয়। এ টাকা দিয়ে স্বামী ও ছেলের ওষুধসহ কোনোমতে সংসার চলে।

কক্সবাজার সৈকতের ভ্রাম্যমাণ পান ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, মেয়েটা বোরকা পরে তিন মাসের শিশুকে নিয়ে সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় আচার বিক্রি করে। মেয়েটি সুন্দর। তাকে অনেক সময় ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। আবার কেউ কেউ খারাপ মন্তব্য করে। এটি খুব দুঃখজনক। মেয়েটি সকাল থেকে কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে আচার বিক্রি করে।

সুগন্ধা পয়েন্টের ঝিনুক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, নাজমার স্বামী রোগে আক্রান্ত হাওয়ার পর থেকে তাদের সংসার এলোমেলো হয়ে যায়। ওষুধ খরচের জন্য নাজমার প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা খরচ হয়। যা তার আয়েও আসে না।

সম্প্রতি স্থানীয় এক সাংবাদিক নাজমার দুর্দশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জীবনযুদ্ধে হার না মানা নাজমাকে ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই সঙ্গে ইভটিজিংকারীদের শাস্তির দাবি ওঠে।