সর্বশেষ

শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

ঋণ শোধে অপহরন, শিশু উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার

ঋণ শোধে অপহরন, শিশু উদ্ধার, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার







কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোনের ‘মোহাম্মদীয়া হোটেল’ থেকে দুই বছরের এক অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করেছে র্যাব। একই সাথে অপহরনকারী স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় হোটেলের একটি কক্ষ থেকে অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ধৃতরা হলেন বরিশালের হিজলা উপজেলার উসমান মঞ্জিল ইউপির মো.কেরামত আলীর মেয়ে কেয়া (২০) ও মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা সদরের কবুতর খোলা গ্রামের মো.নাছির উদ্দিনের ছেলে ছুফুয়ান খান রাহাত (২৪)। তারা সম্পর্কে স্বামী -স্ত্রী। ধৃতদের বরাত দিয়ে র্যাব ১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) মো.বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ২০২০ সালে কেয়া এবং ছুফুয়ান বিয়ে করে। তখন ছুফুয়ান ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরী করতো। কিন্তু ৮ মাস আগে তাঁর চাকুরী চলে যায়। বেকার অবস্থায় ধার দেনা করে সংসার চালাতে থাকে। এর মধ্যে তাদের ২০ হাজার টাকার ঋণ গত ১০ আগস্ট পরিশোধ করার কথা ছিল। সহকারি পরিচালক আরো বলেন, ওই ঋণ পরিশোধ করতেই ১০ আগষ্ট কেয়া তার মামার বাড়ি থেকে কৌশলে তার দুই বছরের মামাত বোনকে অপহরন করে। পরে স্বামী ছুফুয়ানসহ কক্সবাজারে আসে। তারপরে ভিকটিমের পরিবারের মুক্তিপন বাবদ ২০ হাজার টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। তিনি আরো বলেন, এব্যাপারে ভিকটিমের পরিবার ঢাকার দক্ষিণখান থানায় কেয়া ও তার স্বামীকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে। পরে ভিকটিমের পরিবার দেয়া তথ্যে আমরা অভিযানটি পরিচালনা করি। বিল্লাল উদ্দিন আরো বলেন, ভিকটিমকে পরিবারের কাছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আসামীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সংশ্লিষ্ঠ থানায় পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

নিউইয়র্কে বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাত

নিউইয়র্কে বিতর্কিত লেখক সালমান রুশদিকে ছুরিকাঘাত

 




হাকিকুল ইসলাম খোকন ,যুক্তরাষ্ট্র সিনিয়র প্রতিনিধিঃনিউইয়র্কে ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছেন বুকারজয়ী লেখক সালমান রুশদি। ঘটনার পরই তাকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


শুক্রবার চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনে ভাষণ দেওয়ার সময় পঁচাত্তর বছর বয়সী রুশদির ওপর হামলা চালায় এক দুষ্কৃতকারী।হামলার পর সঙ্গে সঙ্গে গোটা হলরুম খালি করে দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামলাকারীকে। পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন হামলাকারী।


প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিবিসি বলছে, চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনের এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন রুশদি। হঠাৎ এক ব্যক্তিকে মঞ্চে দৌড়াতে দেখা যায়। তিনি রুশদিকে ঘুষি বা ছুরিকাঘাত করেছিলেন।


হামলার পর আহত রুশদিকে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে  জানা যায়নি।পুলিশ বলছে, ছুরিকাঘাতের ফলে তার ঘাড়ে ক্ষত হয়েছে। 


অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার পরপরই রুশদিকে সহায়তা করতে আশপাশের লোকজন মঞ্চে ছুটে আসে।  


‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ বই লেখার জন্য এ ঔপন্যাসিকের নামে ১৯৮৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছিলেন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি। এ বইয়ের জন্য ৯ বছর তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।   


একই বইয়ের কারণে নব্বইয়ের দশকে ইতালির মিলানে রুশদির ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জাপানি অনুবাদক হিতোসি ইগারাসিকে ছুরি মেরে খুন করা হয় টোকিয়োর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে।


ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ ঔপন্যাসিক ১৯৮১ সালে মিডনাইট'স চিলড্রেন লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। যুক্তরাজ্যেই এর এক মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়।

"মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে পাবনার কোলচুরি গ্রামে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ "

"মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে পাবনার কোলচুরি গ্রামে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ "




আমির হোসেনঃ গত ০৮/০৮/২২ ইং তারিখ  সোমবার  রাত আনুমানিক  ৯.৩০ মিনিটে পাবনার চরতারাপুর ইউনিয়নের কোলচুরি গ্রামে ইমাম নিয়োগ কে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও  সংঘর্ষ তৈরি হয়।  

এলাকাবাসীর নিকট জানা যায়,  স্থানীয় সন্ত্রাসী ডাঃ আব্দুল মজিদ (৫৫) এর নেতৃত্বে তার বাহিনী  ৩/৪ শো জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় বন্দুক নিয়ে মসজিদের সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল মোকছেদ (৪৮) প্রামানিক - এর বাসায় গিয়ে তাকে খোঁজাখুঁজি করে, একপর্যায়ে তাকে না পেয়ে এলোপাতাড়ি গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়,

মোঃ মোকছেদ (প্রামানিকের) ভাইয়ের ছেলেরা ও ভাগ্নেরা এগিয়ে এসে জানতে চাইলে তাদের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা শুরু করে,  

মোঃ মোকছেদ এর ভাইয়ের ছেলে -  ১. মোঃ ইমরান (১৬) কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠে এলোপাতাড়িভাবে কোপ  দেয়,  আর এক চাচাতো ভাইয়ের ছেলে - ২. মোঃ তুশার (২১) কে চাপাতি দিয়ে মাথায়, পিঠে ও দুই হাতের আঙ্গুলে কোপ দিয়ে জখম করে ফেলে, আর এক  চাচাতো ভাইয়ের ছেলে - ৩. মোঃ সুরুজ (১৮) কে হাতুড়ি দিয়ে সমস্ত শরীরে আঘাত করে, তার ভাগিনা  - ৪. মোঃ শাকিল (২০) কে দেশীয় বন্দুক দিয়ে গুলি করে, গুলিটা পেট ঘেশে বের হয়ে যায়, পেটে কিছুটা জখম হয়, তার শ্যালক  - ৫. মোঃ খোকন (২৮) কে মাথায় দাও দিয়ে  কোপ দেয়, তার দুলাভাই - ৬. মোঃ ইকবাল (৫০) কে চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেয়,  

আহত জনরা কেউ কেউ রাজশাহী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। এদের মধ্যে মোঃ তুশার (২১) এর অবস্থা আশঙ্কাজনক, জীবন মরণ নিয়ে খেলা করছে। তার সমস্ত শরীরে ৩২ টা সেলাই করা হয়েছে। 

সন্ত্রাসী ডাঃ আব্দুল মজিদ এর সম্বন্ধে এলাকাবাসী বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর মদত দাতা হিসেবে কাজ করতো, সে নাকি রাজাকার ছিলেন, এখন সে গোপনে বিএনপি ও জামাত-শিবিরের মদদদাতা অর্থ যোগান কারি হিসাবে কাজ করে।

তার ছোট ভাই মোঃ মাসুদ (৪৫) চরতারাপুর ইউনিয়নের বিএনপির প্রচার সম্পাদক।

এলাকাবাসীর আরো বলেন,  সন্ত্রাসী ডাঃ আব্দুল মসজিদ এর বংশধররা সবাই বি এন পি ও জামাত শিবিরের সমর্থকারী। 

এলাকাবাসীরা আরো বলেন,  সন্ত্রাসী মুজিদকে আওয়ামীলীগ  এর কোন মিটিং মিছিল অনুষ্ঠানে কখনও দেখা যায়নি।  

সে এখন মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড টানিয়ে এলাকাবাসীকে বলে বেড়ায়, আমি এখন আওয়ামীলীগ করি এবং এলাকাবাসীকে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সব সময় ভয়ে আতঙ্কে রাখে।

ভুক্তভোগীরা জানান, থানায়  তাদের এ পর্যন্ত কোন মামলা নেওয়া হয়নি।

দেশকে ভালোবেসে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরনে সৌদি প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারীর  আহবান

দেশকে ভালোবেসে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরনে সৌদি প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারীর আহবান





হাকিকুল ইসলাম খোকন ,সিনিয়র প্রতিনিধিঃরিয়াদে রেমিট্যান্স প্রেরণে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়  গত শুক্রবার ,১২ আগস্ট, ২০২২; দেশমাতৃকাকে ভালোবেসে দেশের প্রয়োজনে বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরনে সৌদি প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। তিনি গতকাল রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে “বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরনের প্রয়োজনীয়তা, প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক আয়োজিত এক সেমিনারে একথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ২৬ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করলে দেশে ডলারের রিজার্ভ আরো বৃদ্ধি পাবে। খবর বাপসনিউজ।


রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বিগত অর্থবছরে বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স গেছে প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যার মধ্যে সৌদি আরব প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার। দেশে প্রেরিত রেমিট্যান্স এর মধ্যে সৌদি প্রবাসীরাই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এজন্য সৌদি প্রবাসীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রদূত। রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে আরও সহজে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণের জন্য সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে রাষ্ট্রদূত জানান। 

রাষ্ট্রদূত বিদেশে আসার আগে সবাইকে অবশ্যই একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে আসার আহবান জানান। তাহলে সহজেই যার যার নিজস্ব একাউন্টে টাকা পাঠানো ও তার হিসাব রাখা সহজ হয় বলে উল্লেখ করেন। প্রবাসীদের সময়মত নিজের পাসপোর্ট ও ইকামার মেয়াদ হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত। কারন ইকামার মেয়াদ না থাকলে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানো সম্ভব হয়না। তাই এ বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।   

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে আমাদের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের আমদানি ব্যয় মেটানো ও দেশের অর্থনীতি গতিশীল রাখার লক্ষ্যে বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে অর্থ প্রেরণের জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান রাষ্ট্রদূত। 

রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠালে আপনার পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে আপনার অবদান নিশ্চিত হয়। এছাড়া দেশে আপনার আয় বৈধ বলে বিবেচিত হয়। একই সাথে সরকার ঘোষিত ২.৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা ও পাওয়া যায়। প্রবাসী আয়ে সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধা ও পাওয়া যায়। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে ও প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে আসুন সবাই বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ করি। 

সেমিনারে রিয়াদের ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার অভিবাসিরা যোগ দেন। সৌদি আরবের জেদ্দা, দাম্মাম, তাবুকসহ বিভিন্ন শহরের অভিবাসিরা জুমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ২৬ জন প্রবাসী সেমিনারে অনুষ্ঠানে তাঁদের বিভিন্ন মতামত, প্রশ্ন ও সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রবাসীরা অভিবাসীদের সরকারের পেনশনের আওতায় আনার দাবি জানান। দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ সময় প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ও তাঁদের সুপারিশগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। 

অনুষ্ঠানে রেমিট্যান্স বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন দূতাবাসের সোনালী ব্যাংক প্রতিনিধি মোঃ জসীম উদ্দিন খান, শ্রম কাউন্সেলর রেজায়ে রাব্বি, ইকোনমিক কাউন্সেলর মুর্তুজা জুলকার নাঈন নোমান, ও মিশন উপপ্রধান আবুল হাসান মৃধা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতাবাসের কাউন্সেলর মোঃ বেলাল হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে প্রেরিত রেমিট্যান্স কিভাবে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগে তাঁর বিস্তারিত তুলে ধরেন। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। দূতাবাসের ডিফেন্স এ্যটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম ফারুক অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। 

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যূলেটের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরনের আহবান জানান। সৌদি আরবে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত সকল প্রবাসীদের সুবিদার্থে অনুষ্ঠানটি দূতাবাসের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২

কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ-এক বার্ষিক বনভোজন ও মিলন মেলা ২০২২ অনুষ্ঠিত

কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ-এক বার্ষিক বনভোজন ও মিলন মেলা ২০২২ অনুষ্ঠিত

 




হাকিকুল ইসলাম খোকন ,যুক্তরাষ্ট্র  সিনিয়র প্রতিনিধিঃ প্রবাসে  অন্যতম আঞ্চলিক  সংগঠন কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ-এর বনভোজন ও মিলন মেলা হয়ে গেল গত ৭ই আগস্ট  রবিবার , প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নিউইয়র্কের ওয়েচেষ্টার কাউন্টির কর্টোন পয়েন্ট পার্কে I ব্যাপক আনন্দঘন , উৎসবমুখর পরিবেশে বাস ও নিজস্ব পরিবহনে তিন শতাধিক লোকের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল। খবর বাপসনিউজ।


দিনের শুরুতে সমিতির সভাপতি আসাদুজ্জামান  ট্রাষ্টী বোর্ড , উপদেষ্টামন্ডী , কার্যকরী কমিটি , বনভোজন কমিটি সহ সকল অতিথিদের নিয়ে বেলুন উড়িয়ে বনভোজন উদ্বোধন করেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত উপদেষ্টা  ডাক্তার হুমায়ন কামাল , ট্রাষ্টী বোর্ডের সদস্য  গিয়াস উদ্দীন ,প্রফেসর  ড. মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ্, রাশেদুল আলম  , সাজেজুল ইসলাম সুজন , মাসুদুল ইসলাম লিপু , এছাড়া উপদেষ্টা মন্ডলীদের মধ্য নাজমুল আহসান দুলাল, দিনাজ  খান ,রফিক আহম্মেদ মিলু ,ইমদাদুল হক , শহিদুল ইসলাম , মোঃ ইয়াকুব ।অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্জিনিয়ার আব্দুল খালেক পরিচালক মিলেনিয়াম টেলিভিশন, কারিউম কাইছার ( কাইছার টেক )রাকিবুজ্জামান ,শেখ আল মামুন ( মামুন টিউটরিয়াল ) , মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ।এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম , বনভোজন ও মিলন মেলার আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক  ,সহ সভাপতি সাইদুর রহমান, জনিরুল ইসলাম , মামুন রশিদ সরোজ , সদস্য সচিব মোঃসাজিদ হোসেন প্রলয়  , প্রধান সমন্বয়কারী তৌয়ুবুর রহমান  , যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন , যুগ্ম সদস্য সচিব কারিবুল ইসলাম ,আসিফ ইকবাল সন্চয় , সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মর্জেম হোসেন, আদিত্য শাহীন , শাহীন আহম্মেদ, সুমী, শরিয়ত উল্লাহ , মাসুম আলী , শ্রাবণী আহম্মেদ , পান্না নাহার , মহিমাতুজ্জোহুরা, নার্গিস খাতুন , দিলরুবা , আবুতালেব , মতিয়ার রহমান , কেএম খোকন , মুকুল , শাহজাহান খান , নায়েম ,আলম , আসগর , সাখাওয়াত ও কার্যকরী কমিটির সকল সদস্য  ও অতিথিবৃন্দ I 


দিনের প্রথম পর্বে শুরুতে নাস্তা ,তরমুজ, চিপস ও কোমল পানীয় পরিবেশন করা হয়। এর পর পরই খেলাধুলা পর্ব শুরু করা হয় I খেলাধুলা পর্বটি জিয়াউর রহমানের  তত্ত্বাবধানে খেলাধুলা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব  সাজিদ হাসান প্রলয় , আলমগীর , রানা , সন্চয় , শাহজাহান  এবং কবিরুল ,

১ম পর্বের খেলায় ছিল ছোট ছেলে মেয়েদের ৩থেকে ৫  , ৬ থেকে ৯, ১০ থেকে ১৩ ও ১৪ থেকে ১৭ এবং ১৮ উধ্বে সকলের  দৌড় ।


এরপর দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয় , সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন । সহযোগিতা করেন  আশরাফুল আলম ,জিয়াউর রহমান , আলমগীর , সন্চয় , রানা  , সাজিদ হাসান , কারিবুল ইসলাম সহ অনেকেই  দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজনের পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগিত পরিবেশন করেন ক্লোজ আপ ওয়ান  শিল্পী শশি ও মিঠু এবং অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন নাজমুল আহসান দুলাল  ।


দ্বিতীয় পর্বের খেলায় ছিল আকর্ষণীয় ব্রাজিল ও আর্জেনটিনার সমর্থকের মধ্যে খেলা , হাড়ি ভাঙা  ও বালিশ বদল খেলাগুলো মিলেনিয়াম টেলিভশন সরাসরি সম্প্রচারিত হয়  । হাড়ি ভাঙা খেলাটি উধ্বোধন করেন ড.আসাদুল্লাহ সাহেব ।


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির পর পুরস্কার বিতরণী করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম  , বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান  ।

এসময় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সভাপতি আসাদুজ্জামান , ড.মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ , গিয়াস উদ্দীন , রাশেদুল আলম , সাজেজুল ইসলাম সুজন , মাসুদুল ইসলাম লিপু , সম্মানিত অথিতিদের মধ্যে ছিলেন ইন্জিনিয়ার আব্দুল খালেক , কারিউম কাইছার ( কাইছার টেক ) , রাকিবুজ্জামান এডএনটেক প্রসিডেন্ট , শেখ আল মামুন(মামুন টিউটরিয়াল) সহ অন্যান্য  অথিতিবৃন্দ ।


রাফল ড্র পুরস্কার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: ১ম পুরস্কার (স্বর্ণের সেট) মার্কস হোমকেয়ারের সৌজন্যে , ২য় পুরস্কার (৬৫” টিভি - সৌজন্যে কাইছার টেক ) ৩য় পুরস্কার ( ল্যাপটপ সৌজন্যে এডএনটেক )  , ৪থ  পুরস্কার (ল্যাপটপ  -সৈজন্যে জিন্নাত খান  ) , ৫ম  পুরস্কার ট্যাব  , ৬ষ্ঠ পুরস্কার মাইক্রোওয়েভ সহ  অন্যান্য পুরস্কার গুলো মফিজুর রহমান , মোহাম্মদ এন মজুমদার , ওয়াসী চৌধুরী পুরস্কার প্রদান করা হয় ।এছাড়া গ্রান্ড স্পন্সর করেছেন এটর্নী মইন চৌধুরী , ইন্জিনিয়ার আব্দুল খালেক ও ডাক্তার হুমায়ন কামাল । মিডিয়া পার্টনার ছিলেন মিলেনিয়াম টেলিভিশন ।


ট্রাস্টীবোর্ডের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গিয়াস উদ্দীন , ড.মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ , রাশেদুল আলম , সাজেজুল ইসলাম সুজন , মাসুদুল ইসলাম লিপু , উপদেষ্টামন্ডলীর মধ্যে নাজমুল আহসান দুলাল , ইমদাদুল হক , রফিক আহম্মেদ মিলু , সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম , আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান , অতিথিদের মধ্যে রাখেন ইন্জিনিয়ার আব্দুল খালেক , কারিউম কাইছার , রাকিবুজ্জামান ।


শেষে সভাপতি আসাদুজ্জামান সকল অথিতিবৃন্দ , উপদেষ্টামন্ডলী , মিডিয়া পার্টনার মিলেনিয়াম টেলিভিশন, বনভোজন কমিটি ও কার্যকরী কমিটির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ দিয়ে বনভোজন ও মিলন মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷।

পরিবার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নারী চিকিৎসককে হত্যা করেন কক্সবাজারের রেজা

পরিবার বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নারী চিকিৎসককে হত্যা করেন কক্সবাজারের রেজা



জাগো নিউজ


দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সদ্য এমবিবিএস পাস করা জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীক (২৭) ও রেজাউল করিম রেজার। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে তারা দুজনে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়েছেন এবং বিভিন্ন হোটেলেও থেকেছেন। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানতো মেয়ের পরিবার। এক পর্যায়ে প্রেমিক রেজা বিয়ের প্রস্তাব দেন মেয়ের পরিবারকে। কিন্তু রেজার চরিত্রগত সমস্যার কারণে মেয়ের পরিবার সে প্রস্তাবে রাজি ছিল না।


নিয়মিত মেলামেশার ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার রাজধানীর পান্থপথের একটি আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওঠেন তারা। বিয়েতে মেয়ের পরিবারের অসম্মতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে হোটেল কক্ষেই প্রেমিকা জান্নাতুলকে ছুরিকাঘাত ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন পাষণ্ড প্রেমিক রেজা।


নিহতের পারিবারিক সূত্র, একাধিক গোয়েন্দা সূত্র ও জাগো নিউজের অনুসন্ধানে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।


নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় জান্নাতুলকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে রেজা। পরিবারের অমতে বিয়ের পিঁড়িতে না বসাই কাল হলো মেয়েটির। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছে। এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত রেজাউলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।


পুলিশ সূত্র জানায়, ঘাতক প্রেমিক রেজাউল করিম রেজা বেকার হওয়ায় বিয়ে দিতে রাজি ছিল না জান্নাতুলের পরিবার। এ নিয়ে প্রেমের সম্পর্কে কলহ চলছিল। কিন্তু তারা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় চাইলেই পরিবারের অমতে বিয়ে করতে পারতেন। তাহলে কি এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মোটা অঙ্কের টাকার দেনা-পাওনা, প্রেমিকের অন্য কোনো সম্পর্ক জেনে যাওয়া, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া কিংবা তৃতীয়পক্ষের কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা নিহিত রয়েছে? যদিও আপাতত এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।


নিহত জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীকির বাবা শফিকুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ি গ্রামে। রাজধানীর রাজারবাগে ২ নম্বর মোমেনবাগ দোলনচাঁপা ভবনে থাকেন তারা। মগবাজার কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ থেকে সদ্য এমবিবিএস পাস করেন জান্নাতুল। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গাইনি বিষয়ে একটি কোর্সে অধ্যয়নরত ছিলেন।


বুধবার সকাল আটটার দিকে জান্নাতুল বাসা থেকে বের হন ক্লাসের কথা বলেন। রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরবেন বলে জানান। তবে বাসায় না ফেরায় রাত ১১টার দিকে তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন পরিবারের সদস্যরা।



অভিযুক্ত রেজাউল করিম রেজার পরিচয় সম্বন্ধে জান্নাতুলের বাবা বলেন, একদিন তার সঙ্গে বন্ধু হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার। গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন রেজা। ব্যাংকে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে চাকরি হারিয়েছেন। এর বেশি কিছু জানা নেই। মামলার কপিতেও রেজার পরিচয় ও ঠিকানা অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


কান্নাজড়িত কণ্ঠে শফিকুল আলম বলেন, আমার তিন মেয়ে। জান্নাতুল ছিল দ্বিতীয়। অনেক স্বপ্ন ছিল মেয়েটিকে নিয়ে। তার ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হবে। সে অনুযায়ী প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাই এবং সম্প্রতি সে এমবিবিএস পাস করে। আমার কয়েক লাখ টাকা খরচও হয়েছে। তবে আমার মেয়ে এভাবে চলে যাবে আমি এখনো কল্পনা করতে পারছি না।


কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সদ্য এমবিবিএস পাস করা নারী চিকিৎসকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিহতের বাবা শফিকুল আলম বাদী হয়ে এ হত্যা মামলা করেন। অভিযুক্ত ও নিহতের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তা মেয়েটির পরিবার আগেই জানতো। এর আগে অনেকবার তারা দুজন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছে, দেখা করেছে। এর আগে ছেলেটি মেয়েটির পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। তবে ছেলের চরিত্রগত কারণে মেয়ের পরিবার বিয়েতে রাজি হয়নি। এরপর ছেলেটি বিভিন্ন সময় হোটেলে মেয়েটিকে নিয়ে ডেট করতো।






ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, আমরা যতদূর জানতে পেরেছি মেয়েটিকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে গিয়েছিলেন রেজাউল করিম রেজা নামের এক যুবক। মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। তিনি বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় রেজাকে অভিযুক্ত করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নিহত জন্নাতুলের সঙ্গে অভিযুক্ত রেজার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। তবে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কটি মেয়েটির বাবা মেনে নেয়নি বলে আমাদের ধারণা।


তিনি বলেন, অভিযুক্ত রেজা একসময় একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। এরপর কোনো কারণে তিনি চাকরিচ্যুত হন। পরিবার প্রেমের সম্পর্ক মেনে না নেওয়া অথবা অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে কি না, তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে।


ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, জান্নাতুল খুনের পেছনে প্রেমের কলহ থাকতে পারে। বিশেষ করে, নিহত জান্নাতুলের পরিবার তার প্রেমিক রেজাউল করিম রেজার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হতো। হয়তো এ কলহের জেরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে আবাসিক হোটেলে নিয়ে জান্নাতুলকে হত্যা করা হয়েছে।


তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, এর আগেও স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা ওই আবাসিক হোটেলে বেশ কয়েকবার উঠেছিলেন।


এদিকে জান্নাতুলের সুরতহাল প্রতিবেদনে কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নার্গিস আক্তার উল্লেখ করেন, তার থুতনি, ঠোঁট ও গলায় সাড়ে আট ইঞ্চি, বাম কাঁধে দেড় ইঞ্চি, দুই বৃদ্ধাঙ্গুলিতে, বুকের মাঝখানে, পেটে ছয়টা কাটা জখম রয়েছে। এছাড়া পিঠে একটি, বাম পায়ের হাঁটুর ওপর ও হাঁটুর নিচে কাটা জখম রয়েছে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা কিংবা ধর্ষণ হয়েছেন কি না, তা-ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।



এর আগে, বুধবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে রাজধানীর পান্থপথে ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের আবাসিক হোটেল থেকে সদ্য এমবিবিএস পাস করা নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীকের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।



ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ওই আবাসিক হোটেলটিতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রেজাউল করিম রেজা নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে উঠেছিলেন জান্নাতুল। এরপর সুযোগ বুঝে স্বামী পরিচয়ধারী কথিত বয়ফ্রেন্ড রেজাউল জান্নাতুলকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যান।


কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বুধবার দিনগত রাতে জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট নামের আবাসিক হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা দুজন (জান্নাতুল ও রেজাউল) উঠেছিলেন। এরপর রাতে পুলিশকে খবর দিলে হোটেলটির চতুর্থ তলার ৩০৫ নম্বর কক্ষের বিছানার উপর থেকে ছুরিকাঘাত ও গলাকাটা অবস্থায় জান্নাতুল নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের শরীরে একাধিক দাগ রয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।


এদিকে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দিনগত রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঘটনায় মূলহোতা রেজাউল করিমকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। রাতেই বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।


তিনি বলেন, ঘটনার পর ছায়াতদন্ত শুরু করে র‌্যাব। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে অভিযান প্রেমিক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়

কক্সবাজারে ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙ্গলো ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্সও

কক্সবাজারে ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙ্গলো ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্সও






সাগরের উচ্চ জোয়ারের আঘাতে কক্সবাজার সৈকতে তীব্র ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে ঢেউয়ের আঘাতে ভেঙ্গে গেছে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেস্ক বক্স। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে পড়েছে সৈকতপাড়ের ৫ শতাধিক দোকান। আর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা বলছেন, ভাঙ্গন রোধে কাজ শুরু হয়েছে।

সাগর উত্তাল, উচ্চ জোয়ারে একের পর এক ঢেউ আঘাত করছে উপকূলের বালিয়াড়িতে। একই সঙ্গে ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে গেলো ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্স। আর ভেঙ্গে যাচ্ছে বালিয়াড়ি এবং তলিয়ে যাচ্ছে জিও ব্যাগও।

কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত অব্যাহত রয়েছে। যার প্রভাবে জোয়ার আসলেই ঢেউয়ের আঘাতে তছনছ হচ্ছে সৈকতের লাবনী পয়েন্ট। একই সঙ্গে উচ্চ জোয়ার আসলেই আতংকের থাকেন সৈকতপাড়ের দোকানিরা।






লাইফ গার্ড কর্মী রশিদ বলেন, বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার ভাঙন তীব্র হয়েছে। উচ্চ জোয়ারের সময় বৃহস্পতিবার সকালে ভেঙ্গে যায় ট্যুরিস্ট পুলিশের বক্সটি। একই সঙ্গে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জিও ব্যাগও। এবছরই সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে।

লাবনী পয়েন্টের বিচ মার্কেটের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন বলেন, আমাদের বিচ মার্কেটের ২ শতাধিকের বেশি আচার, শুটকি ও বার্মিজ পণ্যের দোকান রয়েছে। এখন সবগুলো দোকান ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোন মুহুর্তে ঢেউয়ের আঘাত আসবে এই ভয়ে রয়েছি।

প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে সাগরের আগ্রাসন বাড়ছে। তবে এবছর এর মাত্রা আরও বেড়েছে। তাই সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে টেকসই বাঁধ দেয়ার দাবি জানালেন পরিবেশবাদিরা।

বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ভাঙ্গনে তীব্রতা প্রতিবছরই বাড়ছে। কিন্তু সেভাবে সৈকতের পাড় বা ঝাউবিথী রক্ষা করা যাচ্ছে না। তাই দ্রুত সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে টেকসই বাঁধ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সৈকত ভাঙন পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, তীব্র ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানজির সাইফ আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে ১০০ মিটার জিওব্যাগ দিয়ে বাঁধ দেয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে পরিকল্পনা করে টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, এবছর ভাঙ্গনের তীব্রতা বেড়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে কিছু কাজ করা হচ্ছে। আর সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কি করা যেতে পারে তা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

গেলো ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপকূলে নোঙ্গর করেছে ৫ হাজার নৌযান।