সর্বশেষ

বুধবার, ২৯ জুন, ২০২২

উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-৫

উখিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-৫






কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের জালিয়াপালং মাদারবুনিয়া এলাকায় মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


বুধবার (২৯ জুন) দুপুরে এ দূর্ঘটনা ঘটে। এতে নারী-শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।





প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে মেরিন ড্রাইভ সড়কে মোটরসাইকেল ও পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে দুমড়ে মুচড়ে যায় মোটরসাইকেল। ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল ও পিকআপ যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। আহত মোটরসাইকেল আরোহী জালিয়াপালং চরপাড়া এলাকার আবু তাহের মিস্ত্রীর ছেলে হেলাল উদ্দিন বলে জানা গেলেও বাকীদের পরিচয় জানা যায়নি। আহত মোটর সাইকেল চালক কক্সবাজার সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র বলে জানা গেছে।


আহত কলেজছাত্র হেলালের কয়েকজন প্রতিবেশী জানায়,হেলালের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম রেফার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুস্থতার জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন বলেও জানান তারা।


ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি জানায়,বুধবার দুপুরে মোটরসাইকেল ও পিক-আপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে দূর্ঘটনা কবলিত গাড়ি জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


কক্সবাজার জার্নাল

মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০২২

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার






কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর এলাকার রানওয়ের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় রবিন হোসেন (১৪) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২৮জুন বিকেলে বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের পাশ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবক কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার মোঃ শহীদের পুত্র। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলেন।

তার ভাই ফজলে রাব্বি জানান, নিহত রবিন হোসেন মানসিক প্রতিবন্ধি। সোমবার বিকালে সবার অজান্তে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় এবং এরপর থেকে নিখোঁজ ছিলো ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি শেখ মনিরুল গিয়াস জানিয়েছেন, বিমানবন্দর এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানায় স্থানীয়রা। পরে কক্সবাজার সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর ইফতেখার মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ডাকাত পুতিয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ডাকাত পুতিয়া অস্ত্রসহ গ্রেফতার






কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া বাজার এলাকায় র‌্যাব-১৫ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১টি বিদেশী পিস্তল, ২রাউন্ড গুলি ও ১টি ম্যাগাজিনসহ কুখ্যাত পুতিয়া ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও

সহকারী পরিচালক (ল’ এন্ড মিডিয়া) মোঃ বিল্লাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান,কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সোমবার রাতে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী অপরাধমূলক কর্মকান্ড করার উদ্দেশ্যে টেকনাফ থানাধীন হ্নীলা ইউপিস্থ জাদিমুড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ জুন বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে রোহিঙ্গা সৈয়দ হোসেন প্রকাশ পুতিয়া (২৪) পিতা-মৃত আবুল হোসেন প্রকাশ ধইল্যা হাজী, মাতা-আম্বিয়া খাতুন, সাং-নয়াপাড়া (মোচনী ক্যাম্প), ব্লক-আই, থানা-টেকনাফ কে গ্রেফতার করতে হয়েছে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে ধৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশী করে ১টি বিদেশী পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ১টি ম্যাগাজিন পাওয়া যায়।


গ্রেফতারকৃত সৈয়দ হোসাইন প্রকাশ পুতিয়া টেকনাফ এলাকায় পুতিয়া ডাকাত নামে পরিচিত। সে টেকনাফ এলাকার কুখ্যাত স্বশস্ত্র ডাকাত। গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত জকির ডাকাত নিহত হওয়ার পর জকির বাহিনীর অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের নিয়ে পুতিয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তন্মধ্যে অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজিতে অন্যতম। সে একজন রোহিঙ্গা হিসেবে গোপনে সীমান্ত পার হয়ে মায়ানমারের সন্ত্রাসী গ্রুপ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে রোহিঙ্গা ও বাঙ্গালীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে মর্মে জানা যায়। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে দেশীয় অস্ত্রের যোগানদাতা এবং ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি ইত্যাদির ন্যায় জঘন্যতম অপরাধসমূহ সংঘটনের পরও পুতিয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কোনদিন গ্রেফতার হয়নি। সে সুকৌশলে গ্রেফতার এড়িয়ে এসকল অপরাধ করে যাচ্ছিল।

সৈয়দ হোসাইন প্রকাশ পুতিয়া এর বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় বিভিন্ন সময় অস্ত্র, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মারামারি, গুরুতর জখম, হত্যা ও হত্যা চেষ্টাসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে।


তিনি আরো জানান,গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাবের হাতে অস্ত্র গোলাবারুদ রামদা জব্দ,পলাতক আসামি গ্রেফতার

র‌্যাবের হাতে অস্ত্র গোলাবারুদ রামদা জব্দ,পলাতক আসামি গ্রেফতার






 কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন ঝিমংখালী এলাকায় র‌্যাব-১৫ এর অভিযানের একটি টিম দেশীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রামদা উদ্ধার ও গ্রেফতার।র‌্যব-১৫, সিপিসি- ১ কক্সবাজার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন হোয়াইক্যং ইউপিস্থ ঝিমংখালী পশ্চিমপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী,মিজান ওরফে( মিজান) ডাকাতের বসত ঘরের সামনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল।


আসামি মিজান ওরফে মিজান ডাকাত (৩৫) পিতা-সুলতান আহম্মদ ওরফে পটনা, সাং-পশ্চিম পাড়া, ঝিমংখালী, ওয়ার্ড নং-০৬, ইউপি-হোয়াইক্যং, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার পালিয়ে যায়। তখন উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত ব্যক্তির বসত ঘরের শয়ন কক্ষে সিলিং এর উপর একটি বস্তা হতে ০১ (এক) টি দেশীয় তৈরী ওয়ান শ্যুটারগান, ০১ (এক) রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ০২ (দুই) রাউন্ড কার্তুজের খোসা, ০১ (এক) টি রামদা উদ্ধার করা হয়। পলাতক আসামী দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় অবস্থান করিয়া অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের ব্যবসা করছে মর্মে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।


পলাতক আসামী ও উদ্ধারকৃত মালামাল সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয় বলে বিডিসি ত্রুাইম বার্তা কে জানান। ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন মোঃ বিল্লাল উদ্দিন সহকারী পুলিশ সুপার সহকারী পরিচালক (ল’এন্ড মিডিয়া) পক্ষে অধিনায়ক।#


bdccrimenews

সোমবার, ২৭ জুন, ২০২২

কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় আবারও মাদক ব্যবসার বিস্তার : ইয়াবার পর আসছে আইস

কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় আবারও মাদক ব্যবসার বিস্তার : ইয়াবার পর আসছে আইস







কক্সবাজার জেলায় ভয়ংকর মাদক আইস বা ক্রিস্টাল মেথের প্রথম চালান ধরা পড়ে ২০২১ সালের ৩ মার্চ। এরপর থেকে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আইসের চালান আসা থামেনি, বরং বেড়েছে। ওই বছরে জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে সব মিলিয়ে ২৩ কেজি ৮০২ গ্রাম আইস ধরা পড়ে। আর চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই মিয়ানমার থেকে পাচারের সময় ৫০ কেজির বেশি আইস উদ্ধার হয়েছে।


কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে প্রায় তিন কিলোমিটার প্রস্থের নাফ নদী। ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, এই নদী পেরিয়ে আগে শুধু ইয়াবা বড়ি প্রবেশ করলেও এখন পাল্লা দিয়ে আইসের চালান আসা বাড়ছে। বিভিন্ন সময় অভিযানে ভয়ংকর এসব মাদকের বাহকেরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতা ও মাদক কারবারির পৃষ্ঠপোষকেরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে থামছে না মাদক ব্যবসা। উল্টো বাড়ছে।


স্থানীয় বাসিন্দা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা কক্সবাজারে মাদক ব্যবসার বিস্তারের পেছনে পাঁচটি কারণের কথা বলছেন।


২৩ জুন গভীর রাতে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশের জলসীমানায় (খারাংখালী সীমান্ত) প্রবেশ করেন হাবিবুল্লাহ (৩৭) নামের এক ব্যক্তি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা তাঁকে আটক করেন। শরীর তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার ১ কেজি ৩৫৪ গ্রাম ওজনের ক্রিস্টাল মেথ বা আইস পাওয়া যায়। হাবিবুল্লাহর বাড়ি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজারে। মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে আইসের চালানটি দেশে আনা হচ্ছিল বলে জানান টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার।


বিজিবি সূত্র জানায়, এর আগে ১৫ জুন রাতে নাফ নদী অতিক্রম করে দেশে আনার সময় হ্নীলা সীমান্ত থেকে ১ লাখ পিস ইয়াবা এবং ৪ কেজি ৩১৫ গ্রাম ওজনের আইসের বড় চালান জব্দ করে বিজিবি। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ৩০ মে রাতে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।


কক্সবাজারে আইসের সরবরাহ বেড়ে গেলেও ব্যবহার তেমন হচ্ছে না। জেলার মাদকাসক্তদের ৯৫ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। আইসের চাহিদা এখনো রাজধানীকেন্দ্রিক।


মো. রুহুল আমিন, সহকারী পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পাচারের সময় প্রায় ১ কোটি ইয়াবা এবং ৫০ কেজির বেশি আইস উদ্ধার করে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর মধ্যে শুধু বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৪২ কেজি আইস।


অন্যদিকে ২০২১ সালে উদ্ধার হয়েছিল ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫০ ইয়াবা ও ২৩ কেজি ৮০২ গ্রাম আইস। সে হিসাবে ইয়াবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আইসের চোরাচালান। ২০১৯ সালে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ। ২০১৮ সালে ১ কোটি ২৮ লাখ এবং ২০১৭ সালে প্রায় ৮৬ লাখ ইয়াবা উদ্ধার হয়। একটি দেশ বা এলাকায় যত মাদক বিক্রি হয়, তার মাত্র ১০ শতাংশ ধরা পড়ে বলে মত জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইউএনওডিসির।


বিজিবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে ইয়াবা তৈরির কারখানা আছে ২৯টির বেশি। কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবার সিংহভাগ পাচার হয় বাংলাদেশে। এখন মিয়ানমারের আইসের বাজারও বাংলাদেশমুখী।


তিন বছর আগে কক্সবাজারে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ৮২ হাজার। এখন তা বেড়ে প্রায় ৯৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রুহুল আমিন। তিনি বলেন, কক্সবাজারে আইসের সরবরাহ বেড়ে গেলেও ব্যবহার তেমন হচ্ছে না। জেলার মাদকাসক্তদের ৯৫ শতাংশই ইয়াবা আসক্ত। আইসের চাহিদা এখনো রাজধানীকেন্দ্রিক।


বিজিবি সূত্র জানায়, ১ জুন মিয়ানমারের মংডুতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন হয়। সেখানে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজম-উস-সাকিব মিয়ানমার থেকে ব্যাপক হারে ইয়াবার সঙ্গে আইস পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


তিনি মাদক চোরাচালান বন্ধে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জবাবে বিজিপির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এইচটেট লুইন মাদক চোরাচালান বন্ধে মিয়ানমারের কঠোর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তবে মাদক পাচার থামেনি।


টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য নিয়ে আসা মিয়ানমারের কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, আগে টেকনাফে বন্দুকযুদ্ধের মাদক কারবারিদের মৃত্যুর খবরে মিয়ানমারের মাদক কারবারিরা শঙ্কার মধ্যে থাকতেন পাঠানো মাদকের বিক্রয়মূল্য হারানোর ভয়ে। এখন বন্দুকযুদ্ধ থেমে যাওয়ায় মিয়ানমারের কারবারিরা বাকিতে ইয়াবা ও আইসের চালান ঠেলে দিচ্ছেন।


মাদক চোরাচালানিদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত আছে জানিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ইয়াবা ও আইসের বড় বড় চালান ধরা পড়লেও নানা কারণে মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে করা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় জেলার ১ হাজার ১৫১ জনের নাম আছে। এর মধ্যে টেকনাফেই ৯১২ জন। তালিকার শীর্ষ ৭৩ জন ইয়াবা কারবারির ৬৫ জন টেকনাফের। ইয়াবা কারবারিদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ওই তালিকার শীর্ষ নামটি ছিল কক্সবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির।


নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মাদক চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার পেছনে পাঁচটি কারণের কথা বলছেন। এগুলো হলো:


মিয়ানমারে বাকিতে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ও আইস। এর ফলে দেশে নতুন ক্রেতা সৃষ্টি হচ্ছে।


মাদক বিক্রির টাকা মিয়ানমারে পাঠানো হয় হুন্ডির মাধ্যমে, তা বন্ধের উদ্যোগ নেই।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারির পাশাপাশি নতুন করে ব্যবসায় নেমেছে আরও কয়েক হাজার, তাদের শনাক্তকরণের উদ্যোগ নেই।


থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলাগুলোর তদন্তে তেমন অগ্রগতি নেই। মাদকের উৎস, পৃষ্ঠপোষক ও মূল হোতাদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এবং


রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরকেন্দ্রিক মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণহীন।


কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশে ইয়াবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঢুকছে আইসও। মিয়ানমারে বাকিতে পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা ও আইস। এর ফলে উখিয়া, টেকনাফ, নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন কারবারি সৃষ্টি হচ্ছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সম্প্রতি উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও আইসের বড় চালান ঢুকছে। এর অন্যতম কারণ সীমান্তের কাছাকাছি দূরত্বে ৯ লাখ রোহিঙ্গার উখিয়ার আশ্রয়শিবিরগুলোর অবস্থান। রোহিঙ্গা শিবিরে মাদকের মজুত গড়ে পরে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ক্যাম্পের শতাধিক প্রভাবশালী রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইস ও সোনা চোরাচালানের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। গত এক বছরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালিয়ে বিদেশি ভারীসহ দুই শতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র, ২৫ লাখের বেশি ইয়াবাসহ প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করেছে।


১৪ এপিবিএন অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক বলেন, এখন ক্যাম্পে মাদকের বেচাবিক্রি তেমন নেই। তবে মাদক কারবারি ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের বাইরে পাহাড়-জঙ্গলে অবস্থান নিয়ে মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে।

শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০২২

এবার কক্সবাজারে অস্ত্রোপচারের ৭ মাস পর রোগীর পেটে মিলল ব্যান্ডেজ

এবার কক্সবাজারে অস্ত্রোপচারের ৭ মাস পর রোগীর পেটে মিলল ব্যান্ডেজ






চিকিৎসক ধারণা করেন নারীর পেটে টিউমার হয়েছে। তিনি আলট্রাসনোগ্রাম করে আরও নিশ্চিত হন যে এটা টিউমার। তাই নারীকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন তিনি। পরে পেটে অস্ত্রোপচারের সময় টিউমারের পরিবর্তে পাওয়া গেছে ‘ব্যান্ডেজ’।



 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) রাতে কক্সবাজার শহরের ফুয়াল আল খতিব হাসপাতালের চিকিৎসক শাহ আলম অস্ত্রোপচার করার সময় এ ঘটনা ঘটে।


ভুক্তভোগী নারী সুফিয়া আকতার (২৮) উখিয়ার রত্নপালং ইউনিয়নের তেলীপাড়া এলাকার জিয়াউদ্দিনের স্ত্রী।


বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে সুফিয়ার ভাগনে সাইমুম উদ্দিন নয়ন ঢাকা পোস্টকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সাত মাস আগে শহরের বেসরকারি জেনারেল হাসপাতালে সুফিয়া আকতারের সিজার করেন গাইনি চিকিৎসক তাজিনা শারমিন। ওই সিজারের সময় পেটে ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেন তিনি।


তিনি আরও জানান, তার খালার সিজার করার ১৫ দিন পর নবজাতকও মারা যায়। এরপর দুই মাস আগে হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন সুফিয়া। ব্যথা বেড়ে গেলে প্রথমে উখিয়ার কোটবাজারের ওরিয়ন হাসপাতালের চিকিৎসক সামিয়াকে দেখানো হয়। পরে তিনি চিকিৎসক শাহ আলমের কাছে স্থানান্তর করেন।


কিন্তু তারা শাহ আলমকে না দেখিয়ে তাজিনা শারমিনের কাছে নিয়ে যান। তাজিনা শারমিন রক্ত জমাট বেঁধেছে দাবি করে এক মাসের ওষুধ দেন সুফিয়াকে। সেই ওষুধ সেবন করার পরও সুস্থ না হওয়ায় আবারও তাকে দেখানো হয়। এবার তাজিনা শারমিন আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বলেন। পরে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখে তিনি সুফিয়াকে জানান পেটে টিউমার হয়েছে, দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে।


কিন্তু তাজিনা শারমিনের প্রতি আস্থা হারিয়ে পরিবার ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতালের ডা. শাহ আলমের কাছে যান। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে ভর্তি হন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলম অস্ত্রোপচার করে পেট থেকে ব্যান্ডেজ বের করেন। ব্যান্ডেজ পচে সুফিয়ার পেটে ইনফেকশন হয়েছে বলে চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন।


এ ঘটনায় চিকিৎসক তাজিনা শারমিন অভিযুক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন নয়ন।


এ অভিযোগের বিষয়ে তাজিনা শারমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে ঢাকা পোস্টকে জানান। তিনি আরও বলেন, রোগীর পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। যোগাযোগ করলে অবশ্যই আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতাম।


দুই মাস আগে রক্ত জমাট বেঁধেছে ধারণা করে এক মাসের ওষুধ দেওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তাজিনা উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।


এদিকে সুফিয়ার ভাগনে নয়ন অভিযোগ করে বলেন, ফুয়াদ আল খতিব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচার করে বের করা ব্যান্ডেজ প্রথমে রোগীর স্বজনদের দেখালেও পরে গায়েব করে ফেলে। তবে ওই সময় তিনি ব্যান্ডেজের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে ব্যান্ডেজটি গণমাধ্যমকে দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুত্র: ঢাকা পোষ্ট

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০২২

হোয়াইক্যং ঢালাতে ডা*কা*তি*র ঘটনায় জড়িত  ৬জন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার

হোয়াইক্যং ঢালাতে ডা*কা*তি*র ঘটনায় জড়িত ৬জন ডাকাত সদস্য গ্রেফতার






 টেকনাফের বাহারছড়া-হোয়াইক্যং ঢালাতে ডাকাতির ঘটনার রুজুকৃত এজহারভুক্ত মামলার পলাতক ৬জন সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র এবং লুন্ঠিত মোবাইল সেট ও নগদ কিছু অর্থসহ র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব-১৫ এর সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে  টেকনাফ মডেল থানার মামলা নং ৬৯(৬)২২ ইং ৩৯৫,৯৭ ধারায় ডাকাতি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। 


সুত্রে জানা যায়, বুধবার(২২ জুন) রাতের বেলা র্যাব-১৫ এর অভিযানে ডাকাতির মামলার পলাতক স্থানীয় উখিয়া জালিয়াপালং ছেটপখালী ৯নং ওয়ার্ডের মো. জলিলের পুত্র মো.আয়াছ(২২), মাদারবনিয়া ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুর রহিমের পুত্র আমান উল্লাহ(২৪), কক্সবাজার দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লীর সুলতানের পুত্র মো. আরাফাত(২৭) ও আব্দুল মালেকের পুত্র নুরুল আমিন(২৪), চন্দনী মাঠ  ৯নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত আবু মুসার পুত্র মো. সাকিক(২৪) এবং ঝিলংজা ইউপির জানারঘোনা এলাকার মো. নুরুল হক শিকদের পুত্র মো. শাকিল(২১)কে গ্রেফতার করা হয়।


এদিকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ জানান," আটককৃত আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিওিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির লুন্ঠিত ২টি মোবাইল সেট, ১টি হাতঘড়ি, ২টি মানিব্যাগ,বাদীর নিকট হতে লুন্ঠিত নগদ ২০০০টাকা,ভিকটিম  নুর আহাম্মদ এর নিকট হতে লুন্ঠিত নগদ ১৯০০ টাকা,ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি লম্বা দা উদ্ধার করি।গ্রেফতারকৃত ৬ জন আসামির মধ্যে ২ জন আসামি  অদ্য ২৩/৬/২২ তারিখ বিজ্ঞ আদালতে  স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। স্বীকারোক্তিতে আসামিরা ৮ জন আসামির নাম প্রকাশ করেছে। তন্মধ্যে ৫ জন আসামি গ্রেফতার। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।"