বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯

ওরা ধর্ষক আমরা দর্শক - ‍SSTV বাংলা

আমরা দর্শক তাই ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে পারিনা। পারিনা একটু শান্তিমত ঘুমাতে। তাই আমাদের আতংকের মাঝেই দিনগুলো অতিবাহিত করতে হচ্ছে। যে কোনো কাজে বের হলেও আতংকে থাকতে হয় আমার ছোট্ট মেয়েটা এখন কি করছে! ঠিক আছে তো! গোসলে ঢুকলে তখনও ভাবি আমার মেয়েটা না বলে ছাদে একাকী চলে গেলো কি ! ক্লান্তিতে বিছানায় একটু গা এলিয়ে দিলে চোখ বন্ধ করার আগেই আতংকিত হয়ে উঠে যেতে হয়, মেয়েটা কোথায় গেলো !!! এটা কি ধরণের শাস্তি আমাদের উপর! মেয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে আজ এদেশের বাবা-মায়েরা কি অপরাধ করেছে যে একটু শান্তিমত ঘুমাতেও পারবেনা আর সারাটাক্ষণ এক অজানা আতংকে আতংকিত থাকতে হবে!?
মাহবুবা সুলতানা শিউলি
গত ৫ জুলাই’১৯ শুক্রবার, সন্ধ্যার পর শিশু সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না তার পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবনির্মিত ভবনটির নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে ৭ বছরের শিশু সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোস্টমার্টেম পরীক্ষায় পাঠিয়েছে। শওকত মাহমুদ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান, শয়তানের মৃত্যুর পর বলেছিলেন যে সায়মার দেহে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। ধর্ষণের পর, তিনি দড়ি গলা পর্যন্ত আবদ্ধ ছিল এবং তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়। অটোপসি রিপোর্টে শিশুর উপর নিষ্ঠুর নির্যাতনের সব প্রমাণ পাওয়া গেছে।



পুলিশ তদন্তে হারামকে ধর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 0৭ জুলাই সাইমন বাবর দায়ের করা মামলায় পুলিশ তাকে কুমিল্লার তিতাস থানার দাবারদঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করে।

প্রতিদিন সংবাদপত্র পৃষ্ঠাগুলি খোলা থাকে, প্রথম পৃষ্ঠায় গুজব বা অন্য কোনো পৃষ্ঠা একটি সাধারণ সংবাদ শিরোনাম। সোমবার রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুরুষের সন্ত্রাসীরা চার বছরের মা পারুলের মাকে ধর্ষণ করে এবং তার স্বামী ও সন্তানকে মারধর করে। সন্ত্রাসবাদ, ধর্ষণকারী, সোহেল ও অন্যান্য ধর্ষণের শিকারদের জন্য আমরা কি যুদ্ধ করতে পারি? মানবতা আজ লুট করা হয়, তাই আমরা ছেড়ে দিতে এবং ভীত হতে ভয় পায়। আমরা জনসমক্ষে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে পারি না, যাতে ধর্ষকদের আত্মা জাগ্রত হয় না।
পত্রিকার মতে, গত বছর ৩৫৬ টি শিশুর ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং ২২ জন শিশু মারা গিয়েছিল এবং এই বছরের পরিচয়টি জুনের মাঝামাঝি সময়ে ছিল। বছরের শেষ নাগাদ নম্বর দ্বিগুণ হবে কিনা তা আমি জানি না !!! এর মানে হল ৩২৯ জন শিশুকে ধর্ষণের ধর্ষণ ও ধর্ষণের শিকার ৩২৯ শিশু, ২০১৯ সালের ১ জুন পর্যন্ত এবং ১৬ জন শিশু মারা গেছে। তাদের মধ্যে একটি শিশু আছে। একই দিনে সম্রাট ধর্ষণ ও হত্যার একই দিনে আমি একটি মাদ্রাসার শিক্ষকের একটি টিভি শোতে খবর দেখেছি, আমাদের দেশের শিশুরা নারসিত নামে নারসিতের চোর থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

এখন আমি পাঠক একটি জরিপ পরিসংখ্যান উপস্থাপন করতে চান। বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারী থেকে ১৪ মে) ৩৪৬ টি শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এই সময়, ১,৪৯০ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হন। এই ৪৭০ শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। গত ৪ থেকে ৪ মাসে ৩৪৬ শিশু ধর্ষিত হয়েছে, এদের মধ্যে ৩৮ জন গণধর্ষণের শিকার। ধর্ষণের ধর্ষণ ও ধর্ষণের ২২ টি মামলা হয়েছে, এবং ১৮ জন ধর্ষণের পর রিপোর্ট করা হয়েছে। ধর্ষণের পর ১০ শিশু আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া, ৩৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই জরিপ পরিচালনার পরে প্রাপ্ত তথ্য। শুধুমাত্র শিশু এবং তার পরিবার জানে যে আরো এবং আরো শিশুদের ভিতরে নিষ্ঠুরতা শিকার হয়।

আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জনসম্মুখে মৃত্যুদন্ড দাবি করছি।
যদিও ধর্ষকরা ঠিকই আটক হয়। কিন্তু আমাদের সংশয় দূর হবেনা কোনভাবেই। কারণ অধিকাংশ সময় দেখা যায়, ধর্ষকরা রাজনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে এসব অপকর্ম করে নির্ভয়ে। আবার অধিকাংশ ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে রাজনীতি জড়িয়ে যায়। যার দরুন অনেক সময় এসব অপরাধের শাস্তি দেবার ক্ষমতা স্থানীয় প্রশাসনের থাকেনা।
আরো দেখা যায়, ধর্ষক বা ধর্ষকগোষ্ঠী কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক শক্তির অংশীদার। ধর্ষক ভাবে, তার অপরাধ যাই হোক না কেন ক্ষমতা আর টাকার জোরে সে প্রচলিত আইন ও আদালতকে তার নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে পারবে। এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ধর্ষক বা ধর্ষকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, আর্থিক ক্ষমতার কাছে মাথা নত করে থানা, পুলিশ, তদন্ত কর্মকর্তা, প্রশাসন, আদালত, সাক্ষী, ধর্ষণ আলামত পরীক্ষাকারী চিকিৎসক ও হাসপাতাল। ফলে অপরাধীরা এক ধরণের দায়মুক্তি পেয়ে যায়।
আমাদের প্রত্যাশা, এ ধর্ষণের বিচারটিতে যেনো কোনো হেলাফেলা করা না হয়। বঙ্গমাতা আপনার কাছে আহবান জানাই, দ্রুত বিচারকার্যের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। আপনার স্বপ্নের এ সোনার বাংলাকে কলংকিত হতে রক্ষা করুন। এখনই উপযুক্ত সময়। হে অগ্নিকণ্যা, আপনার সুশাসনের চূড়ান্তরুপ আমরা আগেও দেখেছি, এখনও দেখতে চাই হে বাংলার মাতা।

নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। পরিবারের সদস্য, শ্বশুরালয়, কর্মস্থলের সহকর্মী ও গৃহকর্তা-কর্ত্রী কারো কাছেই যেন নিরাপদ নয় নারী-সমাজ। আমরা এক সামাজিক অস্থিরতার মধ্যে প্রতিনিয়ত বিচরণ করছি। ধর্ষণের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান থাকলেও সে বিধান কার্যত বাস্তবায়ন হচ্ছেনা ধর্ষকের ক্ষেত্রে। একজন খুব সহজেই মুক্ত হওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে ধর্ষকগোষ্ঠী। এভাবে সহসা বিনা বিচারে ধর্ষণকারীরা পার পেয়ে যাওয়ার ফলে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা।
এ ধরনের পাশবিকতায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তার সংকট কতোটা প্রকট, তার ইঙ্গিত দেয় ভারতে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক, অবর্ণনীয় স্বরণকালের ধর্ষণ অপরাধের মাইলফলক, সর্বোচ্চ বিকৃত মানসিকতার ইতিহাসের আঁতকে ওঠা লোমহর্ষক ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু আসিফার ওপর ঘটে যাওয়া পাশবিকতা..!!!

বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় ধর্ষণ অপরাধ আরো প্রকট বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সমাজপতিরা ধর্ষকের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেন। আবার অনেক সময় রক্ষকই ভক্ষকের ভুমিকা নেয়। তাই অনেকক্ষেত্রে ঘটনার শিকার দরিদ্র পরিবারগুলো সামাজিক বাধ্যবাধকতা মানতে গিয়ে এমন নির্মমতার বিচার চাওয়ারও সাহস দেখান না।

নারী ও শিশু নির্যাতনের কঠোর আইন বাংলাদেশে বিদ্যমান আছে। কিন্তু সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নেই। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা, আইনের শাসনের অকার্যকারিতা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ প্রভৃতি কারণে নারী ও শিশু ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই জন্যই দিনে দিনে শিশু ও নারী ধর্ষণ বেড়েই চলেছে।


আর প্রতিনিয়ত এতটা নৃশংসতা আমাদের মানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এধরণের জঘণ্যতার শিকার নারীরা, আমাদেরই মা-বোনেরা, আমাদের নিষ্পাপ শিশুকণ্যারা, তোমরা আমাদের ক্ষমা করো…! তোমাদের জন্য আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমরা কি পারি না ধর্ষণের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করার জন্য আন্দোলন করতে! তবেই হয়তো আমাদের প্রতিদিন পত্রিকায় পাতায় দেশ ও বিদেশের কোথাও না কোথাও ঘটে যাওয়া এ ঘৃণ্য অপরাধের সংবাদ আর পড়ার সুযোগ হবে না বা আস্তে আস্তে কমে যাবে!

মাহবুবা সুলতানা শিউলি

মেম্বার, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ইমেইল:mahbubasheuly82@gmail.com

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।