বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৯

রেনুর লক্ষ ভাইরা তোকে ছিড়ে খেয়ে ফেলবে>> SSTV Bangla


রেনুকে যখন পিটিয়ে মারা হচ্ছিলো তখন বারবার রক্তে তার চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো, খুব কষ্টে একবার তাকিয়ে দেখলো তাকে যারা মারছে তারাও দেখতে তার মতোই মানুষ। বাচ্চাদুটো এতিম হয়ে যাচ্ছিলো ভেবে তার বুকে ভয়ানক কষ্ট জমা হচ্ছিলো।

তখনি ছবিতে থাকা দুপেয়ে জানোয়ার হৃদয় তার বুকে রড দিয়ে পিটিয়ে একটা হাড় ভেঙ্গে হৃদপিন্ড বরাবর ঢুকিয়ে দেয়! 




*জামিন নিয়ে বেড় হইস না ভাতিজা, রেনুর লক্ষ ভাইরা তোকে ছিড়ে খেয়ে ফেলবে।


‘হৃদয় যখন দেখছে রেনুর হাতের একটি আঙ্গুল নড়ছে, তখন ওই আঙ্গুলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। যখন দেখেছে পা নড়ছে, তখন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর সে ক্ষান্ত হয়।’


রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তাছলিমা বেগম রেণুকে ছেলেধরা সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা মামলার শুনানিতে কেঁদেছেন তার আইনজীবীরা।

২৪ জুলাই, বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আদালতে এ শুনানি হয়। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।



বাদী পক্ষের আইনজীবী মাইদুল ইসলাম পলক ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে শুনানিতে অংশ নেন। তারা বলেন, একজন নারীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে এ আসামি (ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা)। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় ওই নারীকে হত্যা করা হয়। এ কথা বলে আইনজীবীরা কেঁদে ওঠেন।

আইনজীবীরা বলেন, “স্যার মাথা কাটা, ছেলে ধরা; এটা শুধুগুজব নয়। এটা একটি কুচক্রিমহলের কাজ। এরা একটা গ্যাংয়ের সদস্য। এ আসামিকে রিমান্ডে নিলেই সব তথ্য উদ্ঘাটন হবে।” এ সময় উপস্থিত অর্ধশতাধিক আইনজীবী আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করেন।

এরপর মামলার বাদী নিহতের ভাগ্নে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, “একটি মানুষকে কীভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, সারাদেশের মানুষ ভিডিওটি দেখেছে। হৃদয় যখন দেখছে রেনুর হাতের একটি আঙ্গুল নড়ছে, তথন ওই আঙ্গুলে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। যখন দেখেছে পা নড়ছে, তখন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করেছে। মৃত্যু নিশ্চিত করে তারপর সে ক্ষান্ত হয়।”

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) লিয়াকত আলি আসামির রিমান্ডের দাবি করে বলেন, “আসামি হলো মাস্টারমাইন্ড। অন্যান্য আসামিদের খুঁজে বের করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ রিমান্ড দাবি করছি।”

শুনানি শেষে বিচারক আসামিকে জিজ্ঞেস করেন তার কোনো আইনজীবী আছে কিনা? হৃদয় জানায়, তার কোনো আইনজীবী নেই। তার মা-বাবাও নেই। এরপর বিচারক আবারও আসামিকে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে হৃদয় বলে, “স্যার আমি সবজি বিক্রি করি। একজন মহিলা আমাকে বলে, ‘একজনছেলেধরা মহিলা ধরা পড়ছে।’ তখন আমি গিয়ে দেখি ওই মহিলাকে একটা বাসায় তালাবদ্ধ করে রাখছে। ওইখানে অন্যান্য লোকেরা আগেই এ মহিলাকে মেরে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর আমি যাই....।” এরপর বিচারক শুনানি শেষে প্রধান আসামি ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।



আাদালতে আসামিকে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক।

নিহত রেণুর ছোট ছেলে তাসিম আল মাহির আদালতে হাজির ছিলেন। আদালতে দীর্ঘক্ষণ মা হারা সন্তানকে নিশ্চুপ থাকতে দেখা যায়।

২৩ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে হৃদয়কে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই, শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন তাসলিমা বেগম রেণু। ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪শ-৫শ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন নিহতের ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।


সত্যি বিষয়টা যখনি চোখের সামনে ফেসবুকে পড়ে তখনই হৃদয়ের ভিতর উলটপালট হয়ে যায় সবকিছু সহ্য করার মতো না মায়ের মত মানুষ টাকে এভাবে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হলো।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।