সোমবার, ৫ আগস্ট, ২০১৯

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে পথকলী শিশুদেরকে নিয়ে স্বপ্নপুরী আনন্দ ইশকুল প্রতিষ্টা>> ‍SSTV Bangla


এফ এম শাহ রিপন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
অন্ধকারে আলোর আভা ছড়িয়ে নিরাশার মাঝে কখনো কখনো আশার প্রদীপ জ্বলে উঠে নিরবে নিভৃতে নোয়াখালী জেলার বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনীতে পথকলী শিশুদের নিয়ে স্বপ্নপুরী আনন্দ ইশকুল নামে একটি অভিনব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্সে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী এমনই এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে।



সোনাইমুড়ী উপজেলার ওয়সেকপুর গ্রামের মেয়ে চৌমুহনীতে বাবা মায়ের সাথে বসবাসরত সুমাইয়া চৌধুরী ২০১৮সালের ৩ জানুয়ারী চৌমুহনী রেল ষ্টেশনের দক্ষিন পাশে ছোট্ট একটি ঘর ভাড়া নিয়ে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে এটি শ্রীঘ্রই দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে  অনুকরণীয় মডেল হিসেবে ধরা দেবে বলে মনে  হয়। যাহা ইতিমধ্যে স্থানীয় জনসাধারণ ও সুধী মহলে সাড়া জাগিয়েছে।উদাহরণ সৃষ্টি করেছে সমাজে নৈতিক মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রতকরণে ও যাবতীয় অবক্ষয় রোধে শিক্ষায় অনগ্রসর অবহেলীত শ্রেণীর শিক্ষা সচেতন ও জীবনমান উন্নয়নের বিকল্প নেই।



ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা ও  প্রত্যক্ষ করা তথ্য মতে সপ্তাহে শুক্রবার ছুটি ব্যতিত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ক্লাশ চলা স্বপ্নপুরী আনন্দ ইশকুলে বর্তমানে ৬০ জন পথকলী শিশু শিক্ষার্থী নিয়মিত এক আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষার প্রথম পাঠ বর্ণ পরিচয় শিখছে।এ সময় পথকলী শিক্ষার্থীরা শ্রেণী কক্ষে ছড়া কবিতা গান এবং জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা,বিশ্ব সংগীত আমরা করবো জয় পরিবেশন করে শোনায়।


এই মহৎ কাজে অনুপ্রেরণার উৎস জানতে চাওয়া হলে সুমাইয়া চৌধুরী জানায়,ইশকুল প্রতিষ্ঠার পূর্বে সে চৌমুহনী ট্রেন ষ্টেশনে গিয়ে ছিল ভাসমান শিশু ও পরিবার গুলোর  জরিপ করতে,এসময় পথকলী কিছু  দুষ্ট শিশু এসে ভিড় জমায়,তারা তারকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এবংকলম ভেঙ্গে ফেলে,এতে শান্ত মনে সুমাইয়া চিন্তা করে এদের মধ্যে অন্তত পক্ষে শিক্ষার জ্ঞানের আলো না থাকায় এই আচরণ।এদের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালাতে হবে।




 সুমাইয়া বিষয়টি তার মায়ের সাথে পরামর্শ করে এবং মায়ের পরামর্শে ও উৎসাহে মায়ের দেওয়া ২০ হজার টাকা অগ্রিম দিয়ে উল্লেখিত ঘরটি মাসিক ৩৫০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে স্বপ্নপুরী আনন্দ ইশকুল প্রতিষ্ঠার নব সূচনা করে।

বর্তমানে সে নিজে একাধারে বিদ্যালয়টি পরিচালনা ও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্বরত। তাকে ইশকুল পরিচালনায় ও সহযোগী শিক্ষক হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে চৌমুহনী কলেজের অনার্সের অন্য একজন শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান।



ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সুমাইয়া আরো জানায়,স্বপ্নপুরী আনন্দ ইশকুল পথকলী শিশুদের শিক্ষার বর্ণ পরিচয়ের মধ্যদিয়ে সুচনা স্তর অতিক্রম করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির উপযোগী করে গড়ে তোলার শিক্ষা দিচ্ছি আপাতত। ভবিষ্যতে সরকারী সহা্য়তার হাতছানী পেলে পথকলীদের নিয়ে পৃথক উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন রয়েছে তার।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।