বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

অভিযোগ না নেওয়ায় থানার সামনে গায়ে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রীর মৃত্যু


রাজশাহীর শাহ মাখদুম থানার সামনে নিজের গায়ে আগুন দেয়া কলেজছাত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। স্বামীর নির্যাতনের বিষয়ে পুলিশ অভিযোগ না নেয়ায় শনিবার ক্ষোভে শাহ মাখদুম থানার সামনেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মাহুতি দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

ওই ছাত্রীর নাম লিজা রহমান (১৯)। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রধানপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের পালিত মেয়ে সে। লিজা রাজশাহী মহিলা কলেজের বাণিজ্য দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। নগরীর পবাপাড়া এলাকার একটি মেসে ভাড়া থাকতেন।

লিজা প্রেম করে বিয়ে করেন। তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার খানদুরা গ্রামের খোকন আলীর ছেলে ও রাজশাহী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। 



পরিবারকে না জানিয়েই সাখাওয়াত হোসেন লিজাদের গোবিন্দগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে গত ২০ জানুয়ারি তাকে বিয়ে করেন। পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় সাখাওয়াত লিজাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেননি। একপর্যায়ে সাখাওয়াত স্ত্রী লিজার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

গত জুলাই মাসে লিজা সাখাওয়াতের খোঁজে ছুটে যান চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে। লিজা স্বামীর বাড়িতে গেলে সাখাওয়াত বাড়ি ছেলে পালিয়ে যান। পরে লিজা নাচোল থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। 

পুলিশ সাখাওয়াত ও তার বাবাকে ডেকে এনে তাদের সঙ্গে লিজাকে পাঠিয়ে দেন। এরপর তারা কয়েকদিন একসঙ্গে থাকেন। পরে সাখাওয়াত রাজশাহীতে ফিরে আবারও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।



লিজার বন্ধুরা জানান, তিনি শনিবার দুপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে আবারও শাহ মখদুম থানায় যান। সেখানে ডিউটি অফিসারকে অনেকবার অনুরাধ করেন তার অভিযোগ রেকর্ড করার জন্য। ওসির সঙ্গে শেষে দেখা করেন কিন্তু সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে পাগল বলে পাত্তা না দিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেন।

থানা থেকে বের হয়েই কাছের একটি দোকান থেকে কেরোসিন কিনে থানার সামনে আসেন। সেখানে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের লিজার শরীর পুড়ে যায়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভায়। 

পরে প্রায় অচেতন অবস্থায় লিজাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।



রাজশাহী মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. অসীম কুমার জানান, আগুনে লিজার শরীরের বেশিরভাগই পুড়ে গিয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ কারণে তাকে ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। আগুনে লিজার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে।

এরপর থেকে ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটেই চিকিৎসাধীন ছিলেন লিজা। অবশেষে আজ সকালে মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই তরুণী।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।