বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর হাতে গড়া সেই খেলাঘর এখন ও রয়েছে মানুষের কর্মকান্ডে


খেলাঘর  একটি শিশু সংগঠন। শিশুকিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য খেলাঘর কাজ করে। অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। খেলাঘর শিশুকিশোরদের সুস্থ দেহ ও মন গঠন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির চর্চা এবং সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিভার বিকাশ এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষার প্রসারে আগ্রহী এবং প্রীতি, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার উপর গুরুত্বারোপ করে। এই সংগঠনটি পৃথিবীর সকল শান্তি, স্বাধীনতা ও মুক্তিকামী মানুষের সাথে একাত্মতার উপর ভিত্তি করে সকল কর্মকান্ড বিন্যস্ত করে।




খেলাঘরের জন্ম ১৯৫২ সালের ২ মে। এই দিন দৈনিক সংবাদ-এর সাপ্তাহিক শিশু সাহিত্যপাতা খেলাঘর আত্মপ্রকাশ করে। খেলাঘরকে ঘিরে একদল তরুণ ও উদীয়মান লিখিয়ে ভিড় জমায়। কবি হাবিবুর রহমান ছিলেন খেলাঘরের ‘ভাইয়া’। দৈনিক সংবাদের বংশাল অফিসে খেলাঘর আসর গড়ে উঠে। একে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শাখা খেলাঘর আসর গড়ে উঠতে থাকে। পুরনো ঢাকার জেলখানা রোডে দীন মোহাম্মদ নবীর নেতৃত্বে প্রথম শাখা আসর গঠিত হয় ‘আমাদের খেলাঘর’ নামে। ১৯৫৬ সালের ২২ জুলাই দৈনিক সংবাদের অফিসে এক নির্বাচনী সভায় কেন্দ্রীয় খেলাঘর পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়। সাংবাদিক সৈয়দ নূরউদ্দিন ও তরুণ লেখক আল কামাল আব্দুল ওহাব নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৭ সালে দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ছেলে মুহম্মদ সফিউল্লাহ সভাপতি ও আল কামাল আব্দুল ওহাব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।




১৯৫২-৬০ সময়কালে সাহিত্যচর্চা ছিল খেলাঘরের প্রধান কাজ। ১৯৬৪ সালে বজলুর রহমান খেলাঘরের ভাইয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর খেলাঘর সমাজভিত্তিক শিশু সংগঠনের রূপ নেয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং শোষণমুক্ত সমাজ এই সময়ে খেলাঘরের মৌলিক চেতনা হয়ে উঠে। ১৯৭১ সালে খেলাঘর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্ত স্বদেশে খেলাঘর শ্লোগান তৈরি করে ‘এসো গড়ি খেলাঘর, এসো গড়ি বাংলাদেশ’। এই সময়ে খেলাঘরের কান্ডারি ছিলেন সভাপতি বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দীন আহমদ। ১৯৭৩ সালে খেলাঘরের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই জাতীয় সম্মেলনে খেলাঘর শিশু অধিকার ও বিজ্ঞান আন্দোলনের সূচনা। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সম্মেলন পর সারাদেশে বিপুলসংখ্যক শাখা আসর গড়ে উঠতে থাকে। বিভিন্ন জেলায় জেলাকমিটি গঠিত হয়। এরপর ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯২ সালে খেলাঘরের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালের পর খেলাঘরের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ড. আলী আসগর ও আবদুল আজিজের নেতৃত্বে খেলাঘর বেশ গতিশীল হয়। ২০০২, ২০০৫ এবং ২০০৯ সালে খেলাঘরের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৯-এর সম্মেলনে সংগঠন, শিক্ষা, শিশুর আইনি অধিকার, শিশুর স্বাস্থ্য (শারীরিক ও মানসিক), বিজ্ঞান ও পরিবেশ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ যুগ-পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এই যুগ-পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে বাঙালির জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় উজ্জীবিত এবং অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবতাবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা।

বর্তমানে সারাদেশে খেলাঘরের পাঁচশতাধিক শাখা আসর রয়েছে। জেলা কমিটিগুলি শাখা আসরের পরিচর্যা করে। একটি কেন্দ্রীয় কমিটি সংগঠনের মূল দায়িত্ব পালন করে। ২০০৯ সালের জাতীয় সম্মেলনে প্রফেসর মাহফুজা খানম চেয়ারপার্সন ও ডা. লেলিন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খেলাঘরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।





খেলাঘর শিশুর বিকাশ, শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণসহ সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও ক্রীড়ার ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন দেশের শিশু সংগঠনের সাথে খেলাঘর নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে। যারা এককালে খেলাঘর করতেন তাদেরই একটা বড় অংশ মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তির জায়গায় অগ্রগণ্য মানুষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রত্নাপালং ইউনিয়ণের পালং আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়, ভালুখিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়, ফাতেমাতুজ জোহরা (রাঃ) বালিকা মাদরাসা, গয়ালমারা দাখিল মাদরাসার সকল অষ্টম,নবম,দশম ছাত্র ছাত্রীদের অংশগ্রহণ কামনা করছি।






আয়োজনঃ অভিলাষ খেলাঘর আসর,কোট বাজার।
সোজন্যঃ কাসেম ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস্,কোট বাজার।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।