বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯

নোয়াখালীতে ইউএনও অফিসের কর্মচারীর ধর্ষণের শিকার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী


এফ এম শাহ রিপন,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সেনাাইমুড়ী উপজেলার নির্বাহী অফিসের (ইউএনও) পিয়নের হাতে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে। 

বুধবার ২ অক্টোবর  সকালে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। দুপুরে ধর্ষনের শিকার স্কুল ছাত্রীকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। ধর্ষক জাকির সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অস্থায়ী, দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। ঘটনার পর থেকেই সে পালাতক রয়েছে।





পুলিশ জানায়,রোববার রাতে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের শাকতোলা গ্রামের কাজী বাড়ীর এক দিন মজুরের কন্যা ও নদনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী পাশের ঘরে টিভি দেখতে যাচ্ছিলো। এ সময় একই বাড়ির জামাল আহম্মদের পুত্র ও ইউএনও অফিসের পিয়ন জাকির হোসেন ছাত্রীকে উঠান থেকে মুখ চেপে ধরে ঘরে নিয়ে জোর করে ধর্ষন করে। ধর্ষিতার চিৎকারে বাড়ীর লোকজন টের পেয়ে অন্ধকার ঘর থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। ঘটনার বিচারের দাবীতে ধর্ষিতার বাবা স্থানীয় মেম্বার সহ বিচারকদের দারস্থ হয়। কিন্তু ধর্ষক জাকির হোসেন পলাতক থাকায় স্থানীয়রা সোমবার সকালে ধর্ষিতার পরিবারকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠায়। পরে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইউএনও টিনাপাল বিষয়টি দেখবেন বলে ধর্ষিতার পরিবারের সদস্যদের বাড়ী পাঠিয়ে দেন।



মঙ্গলবার দুপুরে তারা পুনুরায় ইউএনও টিনাপালের কাছে বিচারের দাবিতে ধর্ণা দিলে তিনি ধর্ষিতা, ধর্ষিতার মা ও দাদির মুখে বর্ণনা শুনেন। এ সময় তিনি ধর্ষক জাকিরকেও ডেকে এনে তার সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে ঘটনাটি বিশাসযোগ্য নয় ও মিথ্যে আক্ষা দিয়ে যা হয়েছে মিমাংশা করার প্রস্তাব দেন ইউএনও টিনাপাল। এতে ইউএনও’র উপর ক্ষুব্দ হয়ে ধর্ষিতার পরিবাররের সদস্যরা বাড়ী ফিরে যায়। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে জাকিরকে অভিযুক্ত করে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে সেই অভিযোগ বুধবার সকালে মামলা হিসেবে গ্রহন করে পুলিশ।


ধর্ষনের ঘটনাটি মিমাংশা চেষ্টার বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল জানান, এ সব বিষয়ে কোন মিমাংশা চলেনা। আমি এত কাঁচা কাজ করিনা। আমার কাছে আসার পর আমি অভিযোগ কারিদেরকে বলেছি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে।


এ ব্যাপারে সোনাইমুড়ী থানার ওসি আব্দুস সামাদের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মেয়েটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পালাতক ধর্ষক জাকিরকে ধরার চেষ্টা চলছে।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।