বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

ক্লিনিকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ


সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায়ে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। এ ঘটনায় ওই শিশুর মা আউশী বেগম মঙ্গলবার ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

এছাড়া বিষয়টি জানিয়ে তিনি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সায়েমুল হুদার কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। 

  • ‘রোজ ক্লিনিকে’ সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিখা আক্তার ঈশিতা (৮) নামের শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। রোজ ক্লিনিকের অংশীদার মো. নূর নবী, মো. মামুন, ম্যানেজারসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মৃত শিখা আক্তার ঈশিতা মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের প্রবাসী বিশু মন্ডলের মেয়ে। সে স্থানীয় হযরত হালিমাতুস সাদিয়া মহিলা  মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

অভিযোগের বরাত দিয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন বলেন, পেটের ব্যথার সমস্যায় পরিবারের লোকজন ঈশিতাকে রোববার রোজ ক্লিনিকে নিয়ে যান। ওই সময় উপস্থিত মো. নুর নবী ও মো. মামুন ঈশিতার অবস্থা খারাপ বলে তাড়াতাড়ি ভর্তি করে নেন। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারা অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে জানিয়ে জরুরিভিত্তিতে অপারেশন করাতে হবে বলে জানান। পরদিন সোমবার তার অপারেশন করা হয়।

নিহত শিশুর মা আউশী বেগমের দাবি, “ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারেই আমার মেয়ে মারা গেছে। কিন্তু হাসপাতালের লোকজন জোরপূর্বক অ্যাম্বুলেন্সে মেয়েকে উঠিয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। বলে তাদের কাছে আইসিইউ নেই। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক জানায় অনেক আসেই শিশুটি মারা গেছে।”

তিনি হাসপাতালের মালিক মো. নুর নবী ও মো. মামুন এবং অজ্ঞাতনামা হাসপাতালের ম্যানেজারসহ দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সায়েমুল হুদা বলেন, “ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখব। তদন্তে অভিযোগ প্রমানীত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রোজ ক্লিনিকের অংশীদার আব্দুল হালিম তাদের ক্লিনিকে শিশু মৃত্যু হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.