শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

নতুন চাঁদ দেখে দোয়া করা নবী করিম (সঃ) সুন্নত



রমজান আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। মুসলিম বিশ্ব অপেক্ষায় পশ্চিম দিগন্তে উদিত হওয়া একটি বাঁকা চাঁদের। নতুন চাঁদ উদয় হলে শুরু হবে রমজান মাস। আল্লাহতায়ালা ইসলামি বিধি-বিধানকে চাঁদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা তোমার নিকট নতুন চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে? বলে দাও এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ এবং হজের সময় ঠিক করার মাধ্যম।’ -সূরা বকারা: ১৮৯
হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। কিন্তু যদি আকাশে মেঘ থাকে তাহলে ৩০ দিন পূর্ণ করো।’ -সহিহ বোখারি: ১৯০০
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নতুন চাঁদ দেখার চমৎকার একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। যেকোনো মাসের নতুন চাঁদ, এমনকি রোজা ও ঈদের চাঁদ দেখার দোয়াও এটা। হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন চাঁদ দেখলে দোয়াটি পড়তেন। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রতি মাসে চাঁদ দেখার চেষ্টা করা।
হজরত তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন এই দোয়া পড়তেন-
اللَّهُمَّ أهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالأمْنِ وَالإيمانِ، وَالسَّلاَمَةِ وَالإسْلاَمِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ওই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত করো নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। হেদায়াত ও কল্যাণের চাঁদ। -সুনানে তিরমিজি: ১২২৮
নবী করিম (সা.) চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাসের জন্য কল্যাণের দোয়া করেছেন। দোয়ার প্রতিটি শব্দ দ্বারা শান্তি ও নিরাপত্তার আবেদন করা হয়েছে। ‘আহিল্লাহু’ শব্দের অর্থ হচ্ছে উদিত করুন। অর্থাৎ এই চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সুরক্ষা ও ঈমান দিন। ‘বিল আমনি’ অর্থ বিভিন্ন ধরণের মসিবত থেকে আমাদের নিরাপদে রাখুন। ‘ওয়াল ঈমানি’ অর্থ ঈমানের ওপর সুদৃঢ় রাখুন। ‘ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি’ অর্থ দ্বীন ও দুনিয়ার সব ধরণের ক্ষতি থেকে হেফাজত করুন। ‘রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ’ শব্দ দ্বারা নতুন চাঁদকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, আমি তোমাকে দেখে দোয়া পড়েছি কিন্তু তোমার স্রষ্টা ও আমার স্রষ্টা এক ও অভিন্ন।
ছোট্ট একটি দোয়ার হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক বিছু প্রার্থনা করেছেন। নবী করিম (সা.) এ দোয়া শুধুমাত্র রমজানের চাঁদ দেখে পড়েছেন- এমন নয়, বরং প্রত্যেক মাসের নতুন চাঁদ দেখে এ দোয়া পড়তেন।


আমরা দুনিয়ার বিপদ-আপদ থেকে বাঁচার জন্য, নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে থাকি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতি মাসের শুরুতে আল্লাহতায়ালার কাছে সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া করতেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.