বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২০

উচ্চহারে চার্জ আদায় করছে বিকাশ




নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে পুরো অর্থনীতি বিপর্যস্ত। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যাংকগুলো ক্ষতির সম্মুখীন। স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ ব্যাংকের শাখা বন্ধ।


সীমিত আকারে খোলা রয়েছে কয়েকটি শাখা। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় ছোটখাটো লেনদেনের জন্য মোবাইল ব্যাংকিংই ভরসা।

এতদিন মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন অফার দিয়েছে। কিন্তু দুর্যোগের মুহূর্তে সব অফার প্রত্যাহার করে উচ্চহারে চার্জ আদায় করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

নির্দিষ্ট পরিমাণ লেনদেনে চার্জ আদায় না করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিলেও সেটি মানছে না বড় প্রতিষ্ঠানগুলো।

স্বল্প আয়ের মানুষের ছোট অঙ্কের টাকা লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং। কিন্তু এ ব্যাংকিংয়ে সেবা নেওয়ার খরচ অনেক বেশি।

ব্যাংকগুলোর অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে কোনো খরচ হয় না- এমনকি জমা দিতেও না। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে প্রতিহাজার ১৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২০ টাকা প্রয়োজন পড়ে।

তবে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে কিছুটা খরচ আছে। ঢাকা থেকে গ্রামের শাখায় টাকা জমা করতে গেলে ১ লাখ টাকায় খরচ হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা।

আর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টধারী অর্থ তুলতে গেলে কোনো খরচ হয় না। আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে খরচ ৫ টাকা।

ওই অ্যাকাউন্টধারী নগদ টাকার প্রয়োজনে ক্যাশ আউট করলে তার খরচ হবে হাজারে ১৮.৫০ টাকা থেকে ২০ টাকা। এভাবে খরচ হবে হাজারে ২৫ টাকা।

আর এজেন্ট অ্যাকাউন্টে টাকা ক্যাশ আউট করলে খরচ প্রতিহাজার ২০ টাকা পর্যন্ত। এভাবে ১০ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করলে খরচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। যেখানে ব্যাংকের খরচ মাত্র ২০ থেকে ৪০ টাকা।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার জন্য ১৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স থাকলেও জনপ্রিয় বিকাশ, রকেট ও নগদ।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জনপ্রিয় বিকাশ। এতদিন বিকাশে টাকা পাঠালে কোনো খরচ ছিল না। একটি অফারের অংশ হিসেবে অ্যাপসের মাধ্যমে টাকা পাঠালে তা ফ্রি। করোনার সময় সেই অফার প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে নগদে কিছুটা কম আছে। ক্যাশ আউটে নগদে প্রতি হাজারে কাটে সাড়ে ১৪ টাকা। ক্যাশ ইনে নেই। ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির বেলায় কাটে ৪ টাকা।


এদিকে সরকার শ্রমিক বেতন দিতে ৫ হাজার যে তহবিল করছে তার বড় অংশই দেওয়া হবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাকাউন্টে। এ জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে গৃহশ্রমিক, মালি, গাড়িচালক, নিরাপত্তা শ্রমিকদের বেতন এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আত্মীয়স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য ব্যবহার বেড়েছে। এর বাইরে অনেকেই নিঃস্ব মানুষের সাহায্য হিসেবে টাকা পাঠাচ্ছেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। এসব সাহায্যের অর্থেও বড় ব্যবসার সুযোগ নিচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিগুলো।


রপ্তানিমুখী কারখানার শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ। তাদের মধ্যে তিনটি মোবাইল কোম্পানিতে ১৯ লাখ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বিকাশে ৯ লাখ ৭০ হাজার রকেটে সাড়ে পাঁচ লাখ এবং নগদ এখন আর হচ্ছে চার লাখ অ্যাকাউন্ট।


শ্রমিকরা বলছেন, প্রণোদনার তহবিল থেকে যে বেতন-ভাতা পাব তার বড় একটি অংশ চার্জ বাবদ মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে দিতে হবে। এটি অনেক কষ্টের। অন্তত এ সময় যদি চার্জ কিছুটা কম নিত তা হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।


প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিকাশ বর্তমানে ক্যাশ আউট করতে প্রতি হাজারে সাড়ে ১৮ টাকা কাটে। আর ক্যাশ ইনে কোনো টাকা কাটে না। তবে এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে টাকা পাঠাতে গেলে যে কোনো অঙ্কের জন্য কাটে ৫ টাকা।

গত ১৯ মার্চ সার্কুলার জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দিনে ১ হাজার পর্যন্ত ক্যাশ আউটে চার্জ ফ্রি করার নির্দেশ দেয়। নিত্যপণ্য ও ওষুধ কেনায় সেন্ড মানি ফ্রি করার কথাও বলা হয়। কিন্তু বিকাশ এটি মানেনি।

বিকাশের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, আগের একটি অফারের অংশ হিসেবে সেন্ডমানি ফ্রি ছিল। সেই অফারটি এখন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিনি ১ হাজার টাকা ক্যাশ আউট ফ্রি দিতে বলেছিল।

সেটিতে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছিল। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলাপ করে মাসে একবার ১ হাজার টাকা ক্যাশ আউট ফ্রি করা হয়েছে।

আর দিনে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সেন্ড মানি ফ্রি। আর শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ক্যাশ চার্জবিহীন করা যায় কিনা সেটি চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।


এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, ক্যাশ আউট চার্জ মাসে একবার ফ্রি করার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তারা আমাদের জানিয়েছেন ক্যাশ আউট ফ্রি না করে ক্যাশব্যাক দিচ্ছেন।


সেই হিসেবে তারা রিপোর্ট করছেন। তবে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে এমন ক্যাশব্যাক অফারের কথা জানা যায়নি।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ডাকঘরের মোবাইল ব্যাংকিং নগদ। এতদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছিল না। গত মার্চ মাসে ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।


এ সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নগদের এমদি তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক ১০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ আউটে ফ্রি করেছি।

তবে সেটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমপরিমাণ চার্জ গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ক্যাশব্যাক হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। আর শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্যাশ আউট চার্জ সর্বনিম্ন কত কমানো যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আমরা আশা করছি অতি অল্প খরচে শ্রমিকরা ক্যাশ আউট সুবিধা পাবেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.