মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০

পুলিশকে ফাঁকি দিচ্ছেন, করোনাকে পারবেন তো?


এ যেন ইঁদুর-বিড়াল দৌড়। কী এক অদ্ভুত খেলায় মত্ত আমরা! ঘোষিত লকডাউন এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি দেখে সবার ছুটোছুটি। আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা। মুহূর্তেই মানবশূন্য এলাকা। এরপর পুলিশের চলে যাওয়া। আবারো আদম সন্তানে লোকারণ্য প্রতিটি গলি, প্রতিটি রাস্তা।
প্রায় প্রতিটি লকডাউন এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। কিন্তু কেন এমন লুকোচুরি খেলা? এই চোর পুলিশ খেলা আমাদের কতটা বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা কি আমরা বুঝতে পারছি? দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিলও কি আমাদের মরিচা পড়া বিবেকের দুয়ার খুলে দিতে ব্যর্থ?
এমন হেয়ালি আচরণ যে মৃত্যুকূপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে প্রিয় দেশটাকে, সেটা কি কখনও ভেবে দেখেছি। নিয়ম ভাঙ্গার এই অদ্ভুত খেলা করোনাকে ছড়িয়ে দিচ্ছে সারা দেশে। লাশের গন্ধে বাতাস ভারি হওয়ার পথে। কবে খুলবে আমাদের বিবেকের দুয়ার?
মহামারি করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বড় শিকার যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের বেশকিছু দেশ। কারণ বারবার সতর্ক করার পরও এসব দেশে মানা হয়নি লকডাউন। যার খেসারত গুণতে হচ্ছে মৃত্যুর প্রতিযোগিতা দিয়ে।
অথচ, বিপরীত চিত্র চীনসহ ইউরোপের অন্তত চারটি দেশে। শুধুমাত্র লকডাউন কার্যকর করে আজ করোনা জয়ের পথে করোনার উৎপত্তিস্থল চীন। আর শুরু থেকেই লকডাউন মেনে চলা ইউরোপের চার দেশ চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে ও ডেনমার্কের অপেক্ষা এখন মুক্তির স্বাদ পাওয়ার।
লকডাউনই যেখানে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস ঠেকানোর একমাত্র উপায়, সেখানে আমরা কী করছি? সন্ধ্যা হলেই গলির মুখে কিশোর-তরুণদের আড্ডা। অথচ এই করোনা ঝুঁকি এখন তরুণদেরই বেশি। পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের অর্ধেকেরই বেশি বয়সে তরুণ বা যুবক। আইইডিসিআরের হিসেব বলছে দেশে মোট আক্রান্তের প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
শুরু জায়গায় ফিরে আসি, পুলিশকে ফাঁকি দিচ্ছি, করোনাকে কি পারছি। পুলিশের উপস্থিতি দৃশ্যমান, তাই সহজেই ফাঁকি দেয়া যায়। কিন্ত যে অদৃশ্য মরণঘাতী করোনাভাইরাস তাকে কি ফাঁকি দিতে পারছি? উত্তর একটাই, না। মোদ্দা কথা পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে করোনাকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ফিরছি আমরা। আর বিপন্ন করছি নিজের জীবন, পরিবারের সদস্যদের জীবন। আপনার মা-বাবা, সন্তান, স্ত্রী, ভাইবোন সতর্ক থাকলেও শুধু আপনার জন্যই আজ তারা করোনার কাছে হেরে যাচ্ছে। পারবেন নিজেকে ক্ষমা করতে?
তাই আসুন পুলিশকে নয়, করোনাকে ফাঁকি দিই। অলিগলিতে আর আড্ডা নয়। বাসায় থেকে ফাঁকি দিই রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কিংবা আপনার বন্ধুর শরীরে অপেক্ষায় থাকা মরণঘাতী করোনাভাইরাসকে। তাহলেই বেঁচে যাবে আপনার মূল্যবান জীবন, বেঁচে যাবে আপনার পরিবারের ভালোবাসার মানুষগুলো, বেঁচে যাবে আমাদের সোনার বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.