বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২০

প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই করোনা রোগীর সন্ধান : কক্সবাজারে ১২ করোনা শনাক্ত




দেশে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার ৬৬ দিন পর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে আঘাত হানলো ভয়ংকর করোনা ভাইরাস।  কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে স্যাম্পল টেস্টে বৃহস্পতিবার ১৪মে ২ জন রোহিঙ্গা শরনার্থীর (Forcibly displaced myanmar Nations-বলপূবর্ক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক) করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে। তারা ২জনই পুরুষ এবং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা।

তাদের একজন হলো-উখিয়া উপজেলার লম্বাশিয়া এলাকার ১ নম্বর পশ্চিম ক্যাম্পের বাসিন্দা। তাকে আইওএম এর ২নম্বর ক্যাম্পের পশ্চিম ব্লকে স্থাপিত আইসোলেশন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে তাকে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। অপরজন হলো-কুতুপালং (কপিপি) এর শরনার্থী। তাকেও তাৎক্ষণিক এমএসএফ এর ওসিআই আইসোলেশন হাসপাতাল নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে সেখানে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে।

বিষয়টি আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু মো. তোহা জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের সদস্য ও তাদের সংস্পর্শে আসা সকলকে চিহ্নিত করে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। তাদের আগামী ১৫ মে স্যাম্পল সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে টেস্টে পাঠানো হবে বলে জানান, স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু মো. তোহা।

প্রথমবারের মতো কক্সবাজারে দুই রোহিঙ্গা করোনা পজিটিভ পাওয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বিপদজনক হতে পারে বলে ধারনা করছে সেখানকার প্রশাসন।

এদিকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে বৃহস্পতিবার ১৪মে ১৮৬ জনের স্যাম্পল টেস্টের মধ্যে ১২ জনের রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গার শরনার্থী বলে জানা গেছে।

এছাড়া ৫ জন পুরাতন করোনা রোগীর ফলোআপ রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া যায়। বাকী ১৬৯ জনের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ পাওয়া যায়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার ১৪ মে ‘পজেটিভ’ রিপোর্ট পাওয়া ১২ জন করোনা রোগীর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৯ জন, চকরিয়া উপজেলায় ১ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ২ জন।

এনিয়ে কক্সবাজার জেলায় বৃহস্পতিবার ১৪ মে পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ১৩২ জন।

এরমধ্যে চকরিয়া উপজেলায় ৩৭ জন, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩৫ জন, পেকুয়া উপজেলায় ২০ জন, মহেশখালী উপজেলায় ১২ জন, উখিয়া উপজেলায় ১৪ জন, টেকনাফ উপজেলায় ৭ জন, রামু উপজেলায় ৪ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ২ জন।

আজই প্রথম ২ জন রোহিঙ্গা শরনার্থী করোনা ভাইরাস জীবাণু সনাক্ত করা হলো। কুতুবদিয়া উপজেলায় এখনো কোন করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়নি।

রামু উপজেলার কাউয়ার খোপ ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ার খোপ গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এর স্ত্রী ছেনু আরা বেগম ৩০ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই মহিলা হচ্ছে, কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুবরণ করা রোগী। ইতিমধ্যে মোট ৩৩ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.