বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০

দুধের লিটার ৭০ টাকা, খুশি খামারিরা


এলাকাভেদে দুধের লিটার ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে দুধের চাহিদা বেড়ে গেছে। অনেক জায়গায় মিষ্টি ও দধির দোকান খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে দুধের দাম বেড়ে গেছে। এই দামে দুধ বিক্রি করতে পেরে খুশি দুগ্ধ খামারিরা।

কিছুদিন আগেও খামারিরা দুধের দাম না পেয়ে দিশেহারা ছিলেন। সারাদেশে লকডাউন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধের লিটার নেমে এসেছিল ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে অনেক খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক খামারিকে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশের সব অফিস আদালত ও পরিবহন বন্ধ হওয়ায় দোকানপাট, রেস্তোরাঁসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি টং দোকানে চা বিক্রিও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুধের লিটার নেমে আসে ১০ টাকায়। কেউ কেউ প্রতি লিটার দুধ পাঁচ টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে হাজার হাজার লিটার দুধ বিক্রির অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

খামারিরা বলছেন, করোনার কারণে তারা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তা কাটিয়ে উঠতে অনেক দিন সময় লেগে যাবে। এর আগে একদিকে গো-খাদ্যের দাম বেশি, অন্যদিকে দুধের দাম কম-সবমিলিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন খামারিরা। বর্তমানে দুধের দাম বাড়ার কারণে খামারিরা কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানের খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে অনেক গ্রাহক এখন দুধ কিনছেন। আশপাশের বাজারেও কিছু কিছু দোকান খুলছে। অনেকে সীমিত আকারে হলেও মিষ্টি এবং দধির দোকান খুলেছেন। সে কারণে দুধের চাহিদাও বেড়ে গেছে। এজন্য দামটা পাওয়া যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জে মিল্কভিটাসহ বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এখন দুধ কিনছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ খামারিদের কাছ থেকে দিনে ২ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করছে প্রাণ ডেইরি।

শেরপুর জেলার ডেইরি খামারি তৌহিদুর রহমান পাপ্পু এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, দুধের দাম এখন বেশ বেড়েছে। রমজান মাসে দুধের চাহিদা বেড়ে গেছে। শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, শেরপুরে মিষ্টি এবং কিছু দধির দোকানও খুলেছে। ফলে দুধের চাহিদা বেড়ে গেছে।

তৌহিদুর রহমান বলেন, কিছুদিন আগে দুধের যে দাম ছিল তাতে খামারিরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে গো-খাদ্যের যে দাম তাতে ৬০ টাকার নিচে দুধ বিক্রি করলে খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন না।

বগুড়ার ধুনট থানার উল্লাপাড়া গ্রামের ডেইরি খামারি হবিবর রহমান (হবি) বলেন, রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে দুধের দাম বেড়েছে। রোজার কারণে গ্রাহকও বেড়ে গেছে। রোজার আগেও ২৫ টাকা লিটার দুধ বিক্রি করেছি। এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর খাবারের দামও বেড়ে গেছে। এক কেজি ভূষির দাম ৪৫ টাকা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দুধের যে দাম উঠেছে তা রমজান মাসের পরে থাকবে কি-না সন্দেহ আছে। আবার যদি দুধের দাম কমে যায় তখন খামারিদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

কালিগঞ্জের মোহাম্মদ মোমেন জাগো নিউজকে বলেন, তার ফার্মে প্রতিদিন ১৭০ থেকে ১৮০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পর প্রায় একমাস অনেক টাকা লস হয়েছে। রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে দুধ এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গরুর খাদ্যের যে দাম তাতে কমপক্ষে ৬০ টাকা লিটার দুধ বিক্রি করতে না পারলে খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন না।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ও কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি ড. শামসুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। দুগ্ধ খামারি, পোল্ট্রি খামারি এরা পুষ্টির জোগান দেয়। এরা তাদের পণ্যের দাম না পেলে টিকে থাকতে পারবে না। আমরা চাই কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাক।’

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার কৃষিক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ সুদে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন। এগুলো ডেইরি, পোল্ট্রি এবং মৎস্য খামারিরাও পাবেন। প্রণোদনা পেলে করোনাভাইরাসের কারণে এসব সেক্টরে যে ক্ষতি হয়েছে তা তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.