মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০

ঘরে বসে এনআইডি সেবা দিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবে ইসি




সারাদেশে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন অফিসে বা ঘরে বসেই মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপের মাধ্যমে এনআইডির সেবা দিতে পারেন, সে জন্য তাদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তারা নিজ অফিসে কিংবা বাসায় অবস্থান করে এ অনলাইন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন।

সোমবার (১১ মে) ইসি সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের জারি করা এক নথি থেকে এ তথ্য জানা যায়। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য এ নথি জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করা হয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ইতোমধ্যে একটা গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে নথিতে বলা হয়েছে, এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেকের ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা থাকা আবশ্যক। তাছাড়া ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোন অথবা ট্যাবের যেকোনো একটি ডিভাইস ব্যবহার করা প্রয়োজন হবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে তার ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোন অথবা ট্যাবে জুম মিটিং সফটওয়্যার ইনস্টল করা থাকতে হবে, যাতে করে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সময় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। এ অবস্থায় এই অনলাইন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য ইন্টারনেট সংযোগসহ ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোন অথবা ট্যাবের যেকোনো একটি ডিভাইসে জুম মিটিং সফটওয়্যার ইনস্টল করে প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে ইসির কর্মকর্তারা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, এই করোনার মাঝেও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসহ নানা প্রয়োজনে মানুষ অনলাইনে আবেদন করতে পারছেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে ছোটখাট ভুল থাকে অনেকের। তারা আবেদনের সময় সার্টিফিকেট জমা দেন। জমা দেয়া সার্টিফিকেট সঠিক থাকলে যাচাই-বাছাই শেষে তা অনুমোদন হয়ে যাবে। ইসির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুমোদন করে দিলে এনআইডির অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র উত্তোলন অপশনে ক্লিক করলে সংশোধিত কার্ড পেয়ে যাবেন আবেদনকারী। নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়া ছাড়াই সেখান থেকে ডাউনলোডের পর ব্যক্তি নিজেই প্রিন্ট করতে পারবেন। আবার সে চাইলে সংশোধিত এনআইডি উপজেলা থেকেও নিতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, অনেকে এনআইডির বড় ধরনের ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পর একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে। তখন আবেদনকারীর মোবাইলে এসএমএস চলে যাবে যে, ‘করোনা পরিস্থিতি শেষ হওয়ার পরে উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।’ তখন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ইসির কর্মকর্তারা আরও বলছেন, অনলাইনে এনআইডি সেবা দেয়ার কাজটা কীভাবে হবে? উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করবেন। তারা ডাটা দেখতে পারবেন, তাদের উপজেলায় কয়জন আবেদন করছে। তিনি ওই ডাটাগুলো অথেনটিক করবেন। বিভিন্ন সাপোর্টিং পেপার চেক করবেন। করার পর যেগুলো সংশোধন হওয়ার মতো সেগুলো ঠিক করে দেবেন। তিনি যদি মনে করেন, সেটা তার জায়গায় সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো না। সেটা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো দরকার, তখন সেটা তিনি তাকে পাঠাবেন।

এরপর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা যদি মনে করেন, তারও সেটা এখতিয়ারে না। তখন তিনি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে পাঠাবেন। তারা সবাই অনলাইনে বসেই কীভাবে কাজগুলো করবেন, তাদের অ্যাকাউন্ট দিয়ে, এই প্রশিক্ষণই দেয়া হবে। আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণের পর মোবাইলে ঘরে বসেই ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দিতে পারবেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঘরে বসে কীভাবে এই সার্ভিস দেবেন, সেটারই একটা প্রশিক্ষণ।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.