শনিবার, ২০ জুন, ২০২০

নাইক্ষ্যংছড়িতে দীর্ঘ সমস্যার সমাপ্তি ঘটিয়ে নজির সৃষ্টি করলেন চেয়ারম্যান আবছার







বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে দু’পক্ষের দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জমি ও সীমানা বিরোধের জের নিয়ে সৃষ্ট ঘটনা অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে অবশেষে সমাপ্তি করে বিশাল এক নজির সৃষ্টি করলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত তরুণ চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আবছার ইমন।

এলাকাবাসী জানান.নাইক্ষ্যংছড়ির ২৭০ নং মৌজার উত্তর ছালামী পাড়া গ্রামের মোঃ আমিনের পুত্র নুর হোসেন গং ও মৃত আমির আলীর পুত্র ছৈয়দ আহমদ গং এর মধ্যে সীমানা ও জমির মালিকানার বিরোধের জেরে হামলা,মামলা, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ ও সালিশি বিচার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন এবং আদালত পর্যন্ত গড়ায় তাদের এ ঘটনা।

দীঘ ৪০ বছর ধরে উভয় পক্ষ পাল্টা পাল্টি মামলার ঘানি টানতে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বিষয়টি প্রায় ১৫ -থেকে ২০ দিন বুঝা পড়ার পর অবশেষে জনপ্রিয় এ চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সমাপ্তি হল। দুই পক্ষের লোকজন এ প্রতিবেদককে জানান, দীর্ঘদিনের এ বিষয়টি অনেক জনপ্রতিনিধি হাত দিয়েও শেষ করতে পারেনি তরুণ এ জনপ্রতিনিধির হাত ধরে আমরা আজ আলোর মুখ দেখলাম।

বাদি নুর হোছন ও বিবাদী ছৈয়দ আহমদ আরো জানান,আমরা এ মামলা চালাতে গিয়ে উভয় পক্ষের জমির ৩গুন টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল পাইনি। এর মধ্যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিনিধি এই বিরোধের সঠিক সমাধানে এগিয়ে না আসায় আমরা উভয় পক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। অবশেষে চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের মাধ্যমে সমাধান হওয়ায় আমরা উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট।

স্থানীয়রা জানান, ৪০ বছর ধরে এ বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে অনেক মারামারি, হানাহানির ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন পর হলেও উভয় পক্ষকে এক করে এ বিরোধে নিস্পত্তি করায় পুরো ইউনিয়নে হৈচৈ পড়ে গেছে। এজন্য তরুণ এ চেয়ারম্যানকে কৃতজ্ঞতা জানান সর্বস্তরের মানুষ।

এই বিষয়ে সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার জানান, চাকঢালা-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে উত্তর ছালামী পাড়ায় প্রায় ৪ একর জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। জমির দক্ষিণে বাদী নুর হোছন, উত্তরে বিবাদী ছৈয়দ আহমদ দাবি করলেও মামলার কারণে ৪০ বছর ধরে ভোগ দখলে যেতে পারে নি তারা কেউ। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে উভয় পক্ষকে এক করতে সক্ষম হয়েছি। আজ এলাকার মানুষ ও তাদের আন্তরিকতায় উভয়ের সীমানার মাঝখান দিয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে আমি নিজ হতে যাতায়াতের জন্য ১২ফুট জায়গায় একটি নতুন রাস্তা নির্মাণ করে দিয়ে এবং দুই পক্ষকে সীমানা নির্ধারণ করে এই কঠিন সমস্যার অবসান হয়। নির্মাণাধীন এই রাস্তাতে আগামীতে পারাপারের জন্য ছড়ার উপর ৩৫ মিটারের একটি পিআইও ব্রিজ করারও আশ্বাস দেন তিনি।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.