বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প যাচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব

 নিউজ ডেস্ক :


   


  

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রথম সারির নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা পর ক্যাম্পগুলোতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। চলমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সেখানে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামীকাল শুক্রবার (৮ অক্টোবর) কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন পররাষ্ট্রসচিব। মূলত, তিনি সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি দেখতে যাবেন। সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও যাবেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় লাম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একদল দুর্বৃত্ত মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। মুহিবুল্লাহ হত্যার খবরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। তাছাড়া মুহিবুল্লা ইস্যুতে সবর অবস্থানে রয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। মুহিবুল্লা হত্যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি মুহিবুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগে মুহিবুল্লাহ ইস্যুতে সরব হন পশ্চিমা কূটনীতিকরা। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আন্নে গেরার্ড ভেন লিউইন ছাড়াও বেশিরভাগ পশ্চিমা কূটনীতিক টুইটারে দেওয়া পৃথক বার্তায় মুহিবুল্লা হত্যার বিচারের দাবি করেন। মুহিবুল্লা হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘও।

মুহিবুল্লা হত্যায় বিদেশি চাপ আছে কি না এ নিয়ে গত রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে প্রশ্ন রাখে ঢাকা পোস্ট। জবাবে ড. মোমেন জানিয়েছিলেন, মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় পশ্চিমা বিশ্ব থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই। তবে মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মোমেন বলেন, ‘পশ্চিমা বিশ্ব কিছু পাইলে একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে দেয়। স্টেটমেন্ট দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ বলে মনে করে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু করে না। তারা কিছু হলেই স্টেটমেন্ট দেয়, অথচ তাদের দেশে লোক মরলে তারা কিছু বলে না; তাদের মলে লোক মরে, স্কুলে বাচ্চা মরে এ নিয়ে কোনো স্টেটমেন্ট দেয় না। কিন্তু আমাদের মতো দেশে কিছু হলেই তারা একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে দেয়। তাদের কাজই এটা।’

এদিকে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মুহিবুল্লা হত্যার ঘটনায় কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পুরোপুরি নিরাপত্তা দিচ্ছে সরকার। মুহিবুল্লাকে যারা হত্যা করেছে তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।

মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। এই সংগঠনের হয়ে তিনি রোহিঙ্গাদের অধিকারের কথা তুলে ধরতেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।
ukhiyakhobor.com


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।