রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজট থেকে মুক্তি মিলবে

 নিউজ ডেস্ক :




বদলে যাবে পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক। যানজটমুক্ত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়কের চারটি স্থানে বাইপাস, একটি স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।


এরই মধ্যে পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন করতে মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষার কাজও শেষ হয়েছে। সড়কের চারটি স্থানে ছয় লেনের সেতু নির্মাণের কাজ অনেকটা শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


যেসব স্থানে হবে বাইপাস

পটিয়া, দোহাজারী, আমিরাবাদ ও চকরিয়া। এর মধ্যে কেরানীহাট এলাকায় বাইপাসের পরিবর্তে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে জরিপের (ডিটেইলড সার্ভে) কাজও শেষ পর্যায়ে।


এদিকে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজের) নির্বাহী প্রকৌশলী ও ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পের ব্যবস্থাপক জুলফিকার আহমেদ জানান, পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের চারটি স্থানে ছয় লেনের সেতু হচ্ছে। এর মধ্যে চন্দনাইশের গাছবাড়িয়ায় বরুমতি খালের ওপর একটি, পটিয়ার ইন্দ্রপুল খালের ওপর তিন লেনের দুটি, দোহাজারী শঙ্খ নদের ওপর তিন লেনের দুটি ও চকরিয়ার মাতামুহুরি নদীর ওপর তিন লেনের দুটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।


সওজের এই কর্মকর্তা আরও জানান, শঙ্খ নদের ওপর নির্মাণাধীন নতুন তিন লেনের সেতুর ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে পাশের সেতুটিও তিন লেনের করা হবে। একইভাবে ইন্দ্রপুলের সেতুটির ৬০ শতাংশ, মাতামুহুরি সেতুর ৯০ শতাংশ ও বরুমতি খালের ওপর নির্মাণাধীন ছয় লেনের সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চার লেন কাজের মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা করছে বুয়েটের একটি দল। আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সমীক্ষার কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


এই কর্মকর্তা জানান, চারটি স্থানে সাতটি সেতু নির্মাণে খরচ পড়বে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিআরএনআইপি) প্যাকেজ সি-এর আওতায় ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে।


জানা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেতু প্রতিস্থাপন, ইন্টারসেকশন, বাজার, লেভেল ক্রসিং, রিজিড পেভমেন্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা (ময়নামতি) ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উন্নয়ন ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। শিকলবাহা ক্রসিং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১৫৯ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটারসহ মোট ২৩৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এডিবির অর্থায়নে সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান উন্নীতকরণ কাজের জরিপ করেছে।


পটিয়া-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাইপাস নির্মাণ করা নিয়ে দোহাজারী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ জানান, পর্যটন এলাকা কক্সবাজার, মহেশখালীর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র ও প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দরে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন করতে এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিটি বাইপাস ৩০০ ফুট প্রশস্ত হবে। কেরানীহাট ফ্লাইওভার প্রশস্ত হবে ১৯৬ ফুট।


সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পটিয়া ইন্দ্রপুল এলাকা থেকে কমলমুন্সির হাট পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার বাইপাস ইতিমধ্যে ৩৮ দশমিক ২২ একর জমি নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর পটিয়া বাইপাস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সড়কটিতে এরই মধ্যে যানবাহন চলাচল করছে। নতুন করে আরও জমি অধিগ্রহণ করে বাইপাসটি ৩০০ ফুট প্রশস্ত করা হবে।


চন্দনাইশের দেওয়ানহাট থেকে দোহাজারীর দক্ষিণ পাশের রাজমহল কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশে ৪ দশমিক ৭০ কিলোমিটার দোহাজারী বাইপাস নির্মাণ করা হবে। এ সড়ক নির্মাণে ১০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।


সাতকানিয়ার কেরানীহাট এলাকায় বাইপাসের পরিবর্তে ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সওজ। সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের নয়াখালের মুখ থেকে কেঁওচিয়া নয়াপাড়া এলাকা পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ আরও জানান, ৩০০ ফুট প্রস্থের ৪ কিলোমিটার বাইপাসে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে ৮০ একরের বেশি। নয়খালের মুখ থেকে সাতকানিয়া রাস্তার মাথার দক্ষিণে নয়াপাড়া পর্যন্ত ১৯৬ ফুট প্রশস্তচার৪ কিলোমিটার ফ্লাইওভারে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে মাত্র চার একর। এতে খরচ অনেক কমে আসবে।


লোহাগাড়া উপজেলার রাজঘাটা রূপসী ক্লাব থেকে সড়কের পূর্বপাশ হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান কলেজসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার লোহাগাড়া বাইপাস নির্মাণ করা হবে। এই সড়ক নির্মাণে ৮৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। একইভাবে চকরিয়া সরকারি কলেজ থেকে সড়কের পূর্বপাশে সাত কিলোমিটার বাইপাস নির্মাণ করা হবে। এতে ১৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।


অন্যদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পাঁচটি যানজট এলাকা চিহ্নিত করে এসব প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগেই থাকে। আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে এসব বাইপাস নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা।


নির্মাণকাজ শেষ হলে সড়কে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। পাঁচটি স্থান ছাড়া পটিয়ার আমজুর হাট, শান্তির হাট প্রায় সময় যানজট লেগেই থাকে। সেখানে নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে সওজ। প্রস্তাবটি জাইকার কাছে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। সুত্র: আজকের পত্রিকা


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।