বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১

নাইক্ষ্যংছড়িতে ঘরে ঘরে জ্বর-কাশি-সর্দি আক্রান্ত হাসপাতাল প্রধানও

 নিউজ ডেস্ক ::



 

মিয়ানমার সীমান্ত উপজেলা পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়িতে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বর, ডায়রিয়া ও আমশায়সহ নানা রোগ। আক্রান্ত হচ্ছে সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে শিশুরা বেশী। এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পাহাড়ি এ জনপদ। এমনকি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান নিজেও এতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সর্দি-জ্বর ও ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ি।

সরেজমিন গিয়ে সংশ্লিষ্টতাদের সাথে কথা বলে এ সব তথ্য জানতে পারেন এ প্রতিবেদক।


 

নাইক্ষ্যংছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাঠ পরিদর্শক পল্লব বড়ুয়া জানান, উপজেলার ১৭ মৌজার প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বর সর্দি বতর্মানে।

তার প্রতিটি স্বাস্থ্য সহকারী এখন মাঠে কাজ করছেন। যা আগের তুলনায় দু'গুণ। তারা রোগীদের দ্বারে দ্বারে এ সব রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন দিন রাত।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫ ইউনিয়নে ১৩ টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ের রোগীরা সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের ৩ গুণ বেশী রোগী সেখানে। যাতে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তাররা।

বাঁকখালী মৌজার বাসিন্দা খুরশেদ আলম জানান,তার বাড়িতে ৫ সদস্যের সকলে সর্দি-জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত। কিন্তু টাকা না থাকায় কোথাও নিতে পারছে না তার মা বাবাকে। তাদের সেখানে সরকারী কোন লোকজনকে তারা দেখেন না সারা বছর । স্বাস্থ্য সহকারী তো কখনও না।


 


বাইশারী মধ্যম চাক পাড়ার থোয়াইলং চাক বলেন,ঋতু পরিবর্তনের এ সময় প্রতি বছর এসব অসুখ হয় তাদের। বর্তমানে তার ঘরের সকলেই জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে। তবে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন নিয়মিত। এখন সুস্থের পথে অনেকে।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যানপাড়ার বাসিন্দা ক্যানুু মার্মা বলেন, শুধু জ্বর নয়, তার বাড়িতে ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে ২ জন শয্যাশায়ী। বাকীরাও জ্বরে আক্রান্ত। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, এভাবে উপজেলার প্রতি জনপদে জ্বর-সর্দি মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে আবহাওয়া বা ঋতুজনিত কারণে। যা অন্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী।

অপর দিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ৩ বছরের রেহেনা ইয়াসমিনের মাতা হাসিনা বেগম বলেন,তার এ মেয়েটি ৩ দিন হাসপাতালে। কাশি, জ্বর, সর্দি কমছে না। ডাক্তার বলেছেন, আরো ২/১ দিন লাগতে পারে ভালো হতে। হাসপাতালের অপরাপর রোগির অভিভাবকরাও একই কথা বলেন এ বিষয়ে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. এ জেড এম ছলিম বলেন, পাহাড়ের প্রতিটি ঘরে জ্বর-কাশি-সর্দি। যা মহামরি আকার ধারণ করেছে। সাথে ডায়রিয়া আমশাতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,সেবা দিতে গিয়ে নিজেও জ্বর,কাশি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২ দিন অফিস পযর্ন্ত করতে পারছেন না। কিন্তু মোবাইলে সব করছেন তিনি। তার অসুখের কারণ অসময়ে বের হতে হয় তাকে জনকল্যানেই। এই জন্যে তার এ দশা।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, চিকিৎসা ঠিকভাবে না পেলে অনেক ডায়রিয়া রোগী মারাও যেতে পারেন। সে দিক দিয়ে নাইক্ষ্যংছড়িতে তেমন কোন সমস্যা হয় নি।

 Dainik Coxsbazar


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।