সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১

বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভের সমীক্ষা শেষ পর্যায়ে

নিউজ ডেস্ক ::



মাস দুয়েকের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দেশের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভের নকশা। মীরসরাই থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের ব্যাপারে সমীক্ষা একেবারে শেষ পর্যায়ে। শুরু হয়েছে নকশা তৈরির প্রাথমিক কার্যক্রম। মেরিন ড্রাইভটি নির্মিত হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মীরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইটি ইন্টারন্যাশনাল গত প্রায় এক বছর সময় ধরে সমীক্ষা পরিচালনা করছে। প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে জোরারগঞ্জ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত চার লেন মেরিন ড্রাইভের ব্যাপারে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল যে এই মেরিন ড্রাইভ ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এর সাথে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বিদ্যমান মেরিন ড্রাইভকে যুক্ত করে সর্বমোট মেরিন ড্রাইভের দূরত্ব দাঁড়াবে ২৫০ কিলোমিটার। যা হবে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। কিন্তু সমীক্ষার শেষ পর্যায়ে এসে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমইটি ইন্টারন্যাশনাল নিশ্চিত করছে যে, জোরারগঞ্জ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের দূরত্ব হবে ১৮০ কিলোমিটার। আগামী মাসেই তাদের এই সমীক্ষা শেষ হচ্ছে। এরপরই তারা নকশা তৈরির কাজ শুরু করবে। মাস দুয়েকের মধ্যে বহুল প্রত্যাশার এই মেরিন ড্রাইভের নকশা পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

গত ১৭ নভেম্বর উক্ত প্রকল্পের ব্যাপারে কক্সবাজারে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল ওয়াহিদ প্রকল্পটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্পটির ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল ওয়াহিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পটির ব্যাপারে সমীক্ষা একেবারে শেষ পর্যায়ে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পটির ব্যাপারে আমরা অগ্রসর হচ্ছি। সমীক্ষা শেষে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নকশা প্রণয়ন করবে। এই নকশা পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুল ওয়াহিদ বলেন, মীরসরাইর জোরারগঞ্জ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হলে তা কেবল সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই সড়ক উপকূলীয় এলাকার জীবন যাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অপর একটি সূত্র বলেছে, সন্দ্বীপ চ্যানেলের বেড়িবাঁধ হয়ে মেরিন ড্রাইভ রোড চট্টগ্রামে আসবে। এখান থেকে আনোয়ারা বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে। বিদ্যমান কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের সাথে যুক্ত হয়ে এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভে পরিণত হবে।

সূত্র জানায়, চার লেনের মেরিন ড্রাইভ নির্মিত হলেও ভবিষ্যতে যাতে রাস্তাটিকে ছয় লেনে উন্নীত করা যায় তার সুযোগ এখন থেকে নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি ব্যয়ে আনুমানিক বিশ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে বলে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে উদ্ধৃতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। আজাদী


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।