রবিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২১

উখিয়ায় বেকায়দায় আ’লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

নিউজ ডেস্ক ::



দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ভোট উৎসব চলছে উখিয়ার ৫ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদে।


নির্বাচনী এলাকায় দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং, মোটর শোভাযাত্রা, মিছিল-মিটিং। ভোটার ও সর্বসাধারণের দাবী কে নির্বাচিত হচ্ছে সেটাকে প্রাধান্য না দিয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হউক।


উখিয়ার পাঁচ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত ‘নৌকা’ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থীতা রয়েছেন। বিএনপিসহ অনান্য রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইউপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও স্বতন্ত্রের ব্যানারে বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠে রয়েছে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্রের আড়ালে বেশ কিছু বিদ্রোহী প্রার্থীও।


নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভোটার সাধারণ লোকজন, প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী, সংশ্লিষ্ট ভোট গ্রহণ কর্মচারীদের মাঝে বাড়ছে টেনশনও। অতীতের বাস্তবতায় ভোটার সাধারণের মধ্যে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়েও রয়েছে নানা শংকা। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সবধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে।


উখিয়ায় ইউপি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি টেনশনে রয়েছে আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা। নির্বাচন প্রায় শেষের দিকে হলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এখনো সর্বতোভাবে মাঠে সরব দেখা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে দলীয় গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও অনৈক্যে নির্বাচনী ফলাফল পাশ্ববর্তী টেকনাফের ন্যায় বির্পযয়ের আশংকা করছেন আ’লীগের নেতাকর্মীরা।


তাদের মতে, আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের ভরাডুবির পিছনে টেকনাফে যেই ষড়যন্ত্র কাজ করছিল উখিয়ায়ও একই বলয় সক্রিয়।


সরেজমিনে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা জানান, জালিয়াপালংয়ে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী এস.এম সৈয়দ আলমের বিরুদ্ধে দলীয় বিদ্রোহী কোন প্রার্থী নেই। তবে সেখানে একছত্রভাবে দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করছে না। অনেক নেতাকর্মী অনান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।


ওখানে মূলত ত্রিমুখী শক্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতার আভাস দিয়েছে ভোটার সাধারণরা। তন্মধ্যে আওয়ামীলীগের ‘নৌকা’ প্রতীকের এসএম ছৈয়দ আলম, উখিয়া বিএনপির সহসভাপতি চশমা প্রতীকের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা ঘোড়া প্রতীকের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধুরী। পাশাপাশি তরুণ ও নতুন প্রার্থী হিসেবে বেশ সাড়া ফেলছে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল আলম মনির।


রত্মাপালং ইউনিয়নে ‘নৌকা’ প্রতীকে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী উখিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হুদা একক প্রার্থী। কিন্তু সেখান


তিনি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কথা থাকলেও নির্বাচনী মাঠ বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এখানেও একছত্রভাবে দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করছে না। অনেক নেতাকর্মী অনান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ও অনেকে নিশ্চুপ রয়েছে।


নুরুল হুদার মূল প্রতিদ্ব›দ্বী উখিয়া বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী। সাবেক চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন ও মাহফুজ উদ্দিন বাবু প্রার্থী রয়েছেন,তবে তারা তেমন সক্রিয় নয়।



কঠিন সমীকরণে চলছে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের নির্বাচন। ভোটের মাঠে ‘নৌকা’ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলমের শক্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতায় রয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীক নিয়ে যুবলীগ নেতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইমরুল কায়েস চৌধুরী, উখিয়া আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল হক আমিন, আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী।


রাজাপালং ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী। এখানে তার প্রতিদ্ব›দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহ জাহান চৌধুরীর ভাতিজা সাদমান জামী চৌধুরী। বর্তমানে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা চলছে সমানে সমানে।জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর পক্ষে সবসময় মাঠে সরব রয়েছে ভগ্নিপতি সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি।


সাবেক চেয়ারম্যান উখিয়া বিএনপি নেতা শাহ কামাল চৌধুরীর ছেলে সাদমান জামী চৌধুরীর পক্ষে তার বড় চাচা কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মেঝ চাচা কক্সবাজার জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট শাহ জালাল চৌধুরী ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠে সরব দেখা যাচ্ছে।


রাজাপালংয়ের দুইজন প্রার্থীই পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেভিওয়েট বলে সাধারণ ভােটারদের অভিমত।


উখিয়ায় সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন পালংখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবুল মনজুর। তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের শাহাদাত হোসেন জুয়েল ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলী আহমদ।


এ ইউনিয়নে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচন করছেন দুইবারের নির্বাচিত বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা ঘোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও বিএনপি- জামায়াত ঘরনার চশমা প্রতীক নিয়ে মোঃ আবদুল মালেক।


বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার যুক্তি তুলে ধরে আওয়ামী লীগের অনেকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নৌকা সঠিক জায়গায় যায়নি। নৌকার টিকিট পেয়েছে জনবিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তি।


আওয়ামী লীগ মনোনীত একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় নির্বাচনে তাদের বিজয় কঠিন হয়ে পড়েছে। দলীয় প্রধানসহ আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতারা হুঁশিয়ার করলেও তাতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তা আমলেই নিচ্ছে না।


কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গত শুক্রবার (৪ নভেম্বর) দুপুর পর্যন্ত দলীয় মনোনীত প্রার্থী ছাড়া দলীয় সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আহবান করা হয়েছিল। কিন্তু এ পর্যন্ত উখিয়ার আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি দলীয় অনান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বহাল তবিয়তে স্ব স্ব নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।


কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ মুজিবুর রহমান বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নাম, পদবী ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করে জেলা কমিটির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নিকট বহিস্কারের সুপারিশসহ পত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে সরে যেতে বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে। তারপরেও না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।


উখিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্ণিং অফিসার মো: ইরফান উদ্দিন বলেন, আসন্ন ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। তিনি উৎসবমূখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্টানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সব ধরণের প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, উখিয়ায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে ৩৪জন। সংরক্ষিত মহিলা সদস্যপদে প্রার্থীতা করছে ৫৪জন। সাধারণ সদস্য পদে প্রার্থী রয়েছে ২৮০ জন। এবারের ইউপি নির্বাচনে মোট ৩৬৮জন প্রার্থী রয়েছেন।


উখিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৬১৩জন। তৎমধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৭ হাজার ২১৯জন। মহিলা ভোটার ৬৩ হাজার ৩৯৪জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫০টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৩১টি।

কক্সবাজার জার্নাল


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।