বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১

হাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে কক্সবাজারও

নিউজ ডেস্ক ::





হাতির জন্য রীতিমতো মৃত্যুকূপে পরিণত হতে চলেছে বাংলাদেশ। ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদেক্রমে ছোট হয়ে আসছে তাদের চারণভূমি।


শেরপুর ও চট্টগ্রামের পর কক্সবাজারেও বেড়ে চলেছে হাতি হত্যা। বন বিভাগেরহিসেবে, গেলো চার বছরে জেলায় ২১টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।


গত দশ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ছয়টি হাতির মরদেহ মিলেছে। চট্টলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী, শেরপুরের শ্রীবরদী, কক্সবাজারের চকরিয়ার পূর্ণগ্রামও হারবাংয়ে এসব হাতি মারা গেছে গুলিতে অথবা বিদ্যুতের তৈরি ফাঁদে পা দিয়ে।


দৃশ্যপট কক্সবাজার


গত শনিবার হারবাংয়ে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়া একটি হাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কেউ জানতো না নীরবে হাতিটিকে নির্মমভাবে হত্যার পর গর্তের ভেতর পূঁতে রাখা হয়েছে। দুইদিন পর সেই গর্ত থেকে হাতির বিবর্ণ মরা দেহটি তুলে আনে বনবিভাগ । অথচ জানা গেলো না কারা এই হাতির হত্যাকারী।


শরীর থেকে পা শূঁড় বিচ্ছিন্ন, আঘাতে ক্ষত বিক্ষত শরীর। হাতিটি পাওয়া যায় রামুর খুনিয়া পালং এলাকায়। কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও, চকরিয়া, টেকনাফ উখিয়া ও রামুর সব জায়গায় এখন মিলছে হাতির মৃতদেহ। বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে ও গুলি করে এ বছর মৃত পাওয়া হাতির সংখ্যা আটটি বলা হলেও, অদৃশ্য মৃতের সংখ্যা অনেক।


উজাড় বনে হাতির খাবার নেই, মানুষ বাস করছে এই বন্য প্রাণীর আবাসস্থলে। তাড়া খেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না অবোধ হাতির।


বনবিভাগের কর্মকর্তা ও পরিবেশবাদীরা জানান, দেশে হাতির বিচরণের পথদ্রুত কমে আসছে। গত ছয় বছরে বন্ধ হয়ে গেছে হাতি চলাচলের তিনটি করিডোর।


বাধ্য হয়ে বিশালাকার এ প্রাণীটি মানুষের বসতি এলাকা দিয়েই চলাচলের চেষ্টা করছে। আর মানুষ আতঙ্কিত হয়ে হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা করছে।


গত এক দশকে বন বিভাগের বহু জমি মানুষের দখলে চলে যাওয়ায় বেশিরভাগ বিচরণক্ষেত্র হাতির জন্য আর নিরাপদ নেই। তাদেরকে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হচ্ছে।


তাই কক্সবাজার জেলার বন জঙ্গলে থাকা সত্তরটির মতো হাতি ও তাদের বাচ্চাগুলো বাঁচানোর প্রশ্নে গলা আটকে যায় বন কর্মকর্তাদের। তবে জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বললেন, বণ্যপ্রাণী রক্ষায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এবং বন বিভাগেরতথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে ৯০টি হাতি হত্যার শিকার হয়েছে।


এর মধ্যে ২০২০ সালেই ১১টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। সব ঘটনাই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকার। সেগুলোর মধ্যে সাতটি মারা যায় বিদ্যুৎস্পর্শে। বাকিগুলো মরেছে গুলি খেয়ে।

ukhiyanews


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।