মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

নিম্নচাপের প্রভাবে বর্ষণ : মহেশখালীর মৌসুমী পানের বরজে কোটি টাকার ক্ষতি

 নিউজ ডেস্ক::

 


বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ায় গত ৩ দিন ধরে শীতের অকাল বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পানিতে ডুবে গেছে মহেশখালীর সমতল ভূমিতে চাষাবাদ করা বেশকিছু নিচু এলাকা মৌসুমী পানের বরজ। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকির মুখে পড়েছে  মৌসুমী পান চাষ।  ফলে পানচাষিরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


 

বৃষ্টি থেমে পানি নেমে গেলে রোদ পড়ার সাথে সাথে সদ্য রোপিত এসব পান বরজে পঁচন ধরে ব্যাপক মাড়ক দেখা দেবে বলে পানচাষীদের আশঙ্কা। গত তিনদিনের বর্ষণে উপজেলার বড় মহেশখালী, কালারমারছড়া,হোয়ানক, ছোট মহেশখালী ও শাপলাপুর ইউনিয়নের নিচু এলাকার মৌসুমী পান চাষে বেশ কিছু পান বরজ জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে।

মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের জামাল পাড়া গ্রামের বাণিজ্যিকভাবে পেশাদার মৌসুমী পানচাষি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আমিন বাবুল জানান, তিনি চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে ১৫০ ভার পান বরজ করেছেন। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মতো তার খরচ হয়। মহেশখালীতে তার মতো আরো শত শত সৌখিন পানচাষি রয়েছে যারা তার মতো মোটা অংকের পুঁজি বিনিয়োগ করে পান চাষ করে থাকেন।

বৈরী আবহাওয়া জনিত কারণে গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে সমতল ভূমির ধান চাষের জমিতে চাষ করা এসব মৌসুমী পানের বরজ বৃষ্টি জনিত জলাবদ্ধতায় ডুবে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তিনি আরো জানান পানিতে ডুবে যাওয়া এসব পানের বরজ বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে রোদ পড়লে দেখা দেবে ব্যাপক মড়ক। ফলে মরে যাওয়া এসব পান বরজে চলতি মৌসুমে আর নতুন করে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। এতে পানচাষিরা তার বিনিয়োগকৃত পুঁজি হারিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।


 


 হোয়ানক ইউনিয়নের জামাল পাড়া গ্রামের পান চাষি তোফায়েল আহমেদ টিপু বলেন, মহেশখালীতে আনুমানিক ৫/৬ হাজার একর জমিতে মৌসুমি পান চাষ করা হয়। বর্তমানে পান চাষের নির্মাণ সামগ্রীর চড়া মূল্য দিয়ে প্রান্তিক চাষীরা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পান বরজের চাষ করেছে। অতিস¤প্রতি পান আহরণের সময় শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে দুর্যোগ জনিত কারণে শীতে অকাল বর্ষণে পান চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। নিচু এলাকার জন্য জমিতে মৌসুমী পান চাষ বৃষ্টির জন্য অত্যন্ত স্পর্শ কাতর একটি ফসল।

বৃষ্টি থেমে গেলে পানি নামার সাথে সাথে পান গাছে ব্যাপকভাবে মড়ক দেখা দেবে। ফলে চলতি মৌসুমে ওই পান বরজ আর সফলতার মুখ দেখবে না। উঠে আসবে না পান চাষের খাটানো পুঁজির টাকা। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষীদের সহজ শর্তে ঋণ দানের মাধ্যমে প্রান্তিক চাষীদেরকে  আগামী মৌসুমে পান চাষ করার সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

দৈনিক কক্সবাজার 


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।