মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১

তরুণীর লাশ ফ্রিজিং গাড়িতে রেখে পাহারায় পরিবার

নিউজ ডেস্ক :





বাবা মালয়েশিয়া প্রবাসী। একমাত্র মেয়ের হঠাৎ মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। যে মেয়ে রোববার রাতে স্বামীর সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল এক বিছানায় সে সকালে লাশ হয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলল কীভাবে সেই প্রশ্ন এখন পরিবারের সবার।


তাই তো তরুণীকে রেখে দেওয়া হয়েছে ফ্রিজিং গাড়িতে। বাবা মালয়েশিয়া থেকে ফিরলে মেয়ের মৃত্যুর কারণ খুঁজে তারপর দাফন করা হবে। এমনটি জানিয়েছেন নিহত সানজিদার মা সাহিদা বেগম।


স্থানীয়রা জানান, সানজিদার লাশ সোমবার সন্ধ্যা ৫টার দিকে পুলিশ তার স্বজনদের বুঝিয়ে দিলে ৬টার দিকে ঢাকা থেকে ফ্রিজিং গাড়ি আনা হয়। পরে সানজিদার বাড়ির প্রায় ৫০০ গজ দূরে কাইচাইল চৌকিদার পাড়া জামে মসজিদের সামনে রাস্তায় গাড়িতে সানজিদার লাশ রেখে পাহারা দিচ্ছে পরিবার।


বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে সানজিদার বাবা সাইদ শেখ মালয়েশিয়া থেকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। বাবা বাড়িতে না ফেরা পর্যন্ত লাশ থাকবে ওই ফ্রিজিং গাড়িতেই।



এর আগে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কাইচাইল গ্রামে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সানজিদা ‌(২০)। সে ওই গ্রামের আবু সাঈদ শেখের মেয়ে। সোমবার বিকেলে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে।


মাত্র সাত মাস আগে একই গ্রামের শাহজাহান বেপারীর ছেলে সাহারিয়ার রাতুলের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয় সানজিদার। রোববার রাতে স্বামী রাতুলের সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন সানজিদা। সোমবার সকালে সানজিদাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় স্বামী ও শাশুড়ি। তারা লাশ নামিয়ে খাটের ওপর রেখে এলাকাবাসীকে খবর দেয়। এলাকাবাসী পুলিশে খবর দিলে তারা লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।


নিহতের মা সাহিদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ওই ছেলেকে পছন্দ করায় আমি পরিবারের সবাইকে বুঝিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে আমার মেয়েকে কোরবানির ঈদের এক সপ্তাহ আগে বিয়ে দেই। আমার মেয়ে কীভাবে মারা গেছে আমি কিছু বলতে পারি না। তাই ওর বাবা বলছে, ওর লাশ রেখে দিতে। আমরা ঢাকা থেকে গাড়ি এনে ওর লাশ রেখে দিয়েছি। ওর বাবা মালয়েশিয়া থেকে আসার পর যা করার করবে।


টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা সোয়েব আলী বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

কক্সবাজার জার্নাল


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।