বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

নোয়াখালীতে হেযবুত তওহীদ নারী বিভাগের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

 সুমাইয়া আক্তার শিখা 

স্টাফ রিপোর্টারঃ-






বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত সমুদ্র উপকূলীয় সমৃদ্ধ জেলা নোয়াখালী। নোয়াখালীর মানুষ সুপ্রাচীনকাল থেকেই ধর্মপরায়ণ। ধর্মের প্রতি তথা ইসলামের প্রতি প্রগাঢ় বিশ্বাস  ও আস্থা তাদের হৃদয়ে জাগ্রত।


কিন্তু অত্র অঞ্চলে নানা সময়ে ধর্মব্যবসায়ী স্বার্থান্বেষী একটি গোষ্ঠী সাধারণ সরল ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে তাদের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে সমাজ বিধ্বংসী নানা কাজ করেছে। সেসব অপকর্মের দায় চাপিয়েছে ইসলামপ্রিয় ‘তওহীদী জনতা’র কাঁধে। 


প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার নামে গুজব রটিয়ে হুজুগ তুলে দিয়ে নির্দোষ মানুষের ক্ষতি সাধন করেছে। এতে করে বদনাম হয়েছে ইসলামের। মানুষের ঈমানকে জাতির কল্যাণে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে উপায় তুলে ধরছে মানবতার কল্যাণে নিবেদিত আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। 


ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় আলোকিত করে ধর্মপ্রাণ মানুষকে যাবতীয় সন্ত্রাসবাদ, ধর্মব্যবসা, হুজুগ এবং গুজবের বিরুদ্ধে সোচ্চার করে তোলার লক্ষ্যে  ২৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তাওহীদের নোয়াখালী জেলার নারী বিভাগ মাইজদিতে অবস্থিত বিআরডিবি হলে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম নিলুফা মমিন, সভানেত্রী, জেলা আওয়ামী লীগ, নোয়াখালী। হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইলা ইয়াসমিন, নারী বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম বিভাগ হেযবুত তওহীদ। উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের আরো নেতৃবৃন্দ। 


হেযবুত তওহীদ কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাকিব আল হাসান তার বক্তব্যে বলেন, “ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে গুজব রটিয়ে হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের গ্রামের বাড়ি সোনাইমুড়ীতে বারবার হামলা চালানো হয়েছিল। সেখানে নির্মাণাধীন মসজিদকে গির্জা আখ্যা দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল, প্রকাশ্য দিবালোকে দু'জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু হেযবুত তওহীদের অকুতোভয় সদস্যরা ধর্মব্যবসায়ীদের সেই দানবিক শক্তির সামনে পরাজয় স্বীকার করে নি। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বিনিময়ে আজকে সেখানে চার তলাবিশিষ্ট মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই সঙ্গে চলছে কৃষি, শিক্ষা, গবাদী পশুর খামার, মৎস্য প্রকল্প, পোশাক কারখানা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ক্ষুদ্র শিল্পসহ আরো বহু ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ধ্বংসের পরিবর্তে নির্মাণের উদাহরণ পেশ করে হেযবুত তওহীদ প্রমাণ দিয়েছে ধর্মব্যবসায়ী মিথ্যাবাদীদের অপপ্রচার উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যাচার ব্যর্থ হবে। জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং সত্যের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।”


হেযবুত তওহীদ চট্টগ্রাম বিভাগের নারী বিষয়ক সম্পাদক ইলা ইয়াসমিন তার বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের আদর্শিক লড়াইয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন। 


তিনি বলেন, “যারা ইসলামের নামে সন্ত্রাস করে তারাই ইসলামের প্রধান অবমাননাকারী ও প্রধান শত্রু। কারণ তাদের কাজের ফলে ইসলাম জাতীয় ও সামগ্রিক জীবনে গ্রহণের অযোগ্য ও অনুপযুক্ত জীবনব্যবস্থা বলে প্রতীয়মাণ হচ্ছে। অথচ প্রকৃত ইসলামের যুগে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষ ইসলামকে ভালোবেসে আলিঙ্গন করে নিয়েছিল। ফলে মাত্র অর্ধ শতাব্দীতে পৃথিবীর অধিকাংশ ভূখণ্ডে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অথচ আজকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, জঙ্গিবাদের বিস্তার করে জোর করে মুসলমানদের উপর মানবতাহীন, বাস্তবতা বিবর্জিত একটি বিকৃত ‘ইসলাম’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা হেযবুত তওহীদ এই প্রচলিত বিকৃত ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করেছি এবং আল্লাহর নাজিল করা, রসুলাল্লাহর প্রতিষ্ঠা করা সেই অনাবিল প্রকৃত ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করছি।”


হেযবুত তওহীদের পথচলায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।