বৃহস্পতিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২১

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা শক্তিশালী হবে, আশা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক :



পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা বহন করে চলছে। এটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এই কঠিন দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। জোর গলায় রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করেছে। আশাকরি এ সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।


বৃহস্পতিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ এর কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুত্বের হাত বাংলাদেশের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সত্যিই খুব জটিল ও কঠিন সময় ছিলো। যখন আমরা ভ্যাকসিনের জন্য হন্য হয়ে দেশে দেশে হাত পাতছিলাম, তখন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। আরও দুই কোটি ৭০ লাখ টিকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



 

মোমেন বলেন, এ বছর আমরা আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পালন করছি। আর আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ২৫ বছর পালন করছে। এটা আমাদের বন্ধুত্বের শক্ত অবস্থান প্রমাণ করে।



বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য আদর্শ জায়গা। আমেরিকান বিনিয়োগকারীরা টাকা বানাতে আসতে পারে। আমাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করতে পারে।


তিনি আরও বলেন, আমরা আমেরিকা থেকে তুলা আমদানি করি। সেই তুলার উৎপাদিত পণ্য আমেরিকান বাজারেও যায়। কিন্ত তাতেও অনেক ট্যাক্স। আমেরিকা কিন্তু এই ট্যাক্সটা তুলে নিতে পারে। আমি এই বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ করছি।



 

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আর বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রধান। আমাদের নর্দান জোনের নদী ভাঙন এই সমস্যার অন্যতম কারণ। এই সমস্যার সমাধান আছে আমাদের ডেল্টা প্লানে। যুক্তরাষ্ট্র নদী ভাঙন রোধে নদী খনন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বিনিয়োগ করতে পারে। এর ফলে উদ্ধার করা জমি শিল্পাঞ্চল, নগর ও পুনর্ব্যবহার করা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্র এ কাজে বিনিয়োগ করলে দুই দেশই লাভবান হবে।


বাংলাদেশ বিনিয়োগ নিশ্চিত হওয়া ১০টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধ করেছে। এতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র এখন এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনে বিনিয়োগ করতে পারে। এটা এখন একটি সুযোগ হিসেবে এসেছে।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর মিলার বক্তব্য রাখেন।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।