বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২

যাত্রী সেজে ভাড়া নেয়ার পর চালককে জিম্মি, আটক ৬




 

প্রথমে যাত্রী সেজে ইজিবাইক (টমটম) ভাড়া করেন। পথে পথে তুলে নেয়া হয় চক্রের বাকি সদস্যদের। পরে সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে নিয়ে চালককে জিম্মির পরিকল্পনা। চালককে জিম্মির পর ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। মঙ্গলবার ভোরে এমনি এক চক্রের ৬ সদস্যকে আটকের পর ইজিবাইক ছিনতাইয়ের এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।


 


র‌্যাব জানায়, গেল ২ মার্চ রাতে রামুর চেইন্দা বাজার থেকে  কামাল নামে এক চালকের ইজিবাইকে উঠেন চারজন। পরে পানেরছড়া এলাকায় পৌছালে ওই ইজিবাইকে উঠেন আরও দুইজন। এ ৬ জনই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এরপর কিছুদূর  গিয়ে পাহাড়ের নির্জন স্থানে চালককে বেঁধে নির্যাতন ও পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ইজিবাইকটি নিয়ে পালিয়ে যায় যাত্রী সেজে উঠা ৬ জন। তার সঙ্গে থাকা মুঠোফোনটিও নিয়ে যায়। পরে চালক সেখান থেকে মুক্ত হয়ে বিষয়টি র‌্যাবকে জানালে ছায়া তদন্ত শুরু হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে চালকের মুঠোফোনটি বহন করা ব্যাক্তি রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। সেই সুত্র ধরে ৮ মার্চ ভোররাতে দক্ষিণ মিঠাছড়ি থেকে দক্ষিণ মিঠাছড়ির সিকদার পাড়া এলাকার জাফর আলমের ছেলে মো. আরিফ (২০) কে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার মো. হাসানের ছেলে মো. সায়েদ (২১), মূল হোতা শাহজাহান (২৩), মিঠাছড়ির সমিতি পাড়া এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মুরিয়া (৩১) ও তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক হয় সমিতিপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে আনসার উল্লাহ (২৮) ও দক্ষিণ পাইন্নাশিয়া এলাকার অসিউর রহমানের ছেলে রফিক উল্লাহ (৩১)। তারা সবাই ইজিবাইক ছিনতাইয়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এছাড়াও চক্রটি ইজিবাইকটি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পরে সেখান থেকে ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়। আটকদের মধ্যে মূলহোতা শাহজাহানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যানবাহন ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা রয়েছে।

বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রগুলো কাজ করছিল। একই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল ক্লোলেজ মার্ডারের শিকার ওয়াইয়েজের ক্ষেত্রেও। সেই ঘটনাটির রহস্যও উন্মোচন করেছে র‌্যাব। এটিও একই ধরণের। চালক বেঁচে ফেরার পর এ চক্রটির পেছনে র‌্যাবের একাধিক টিম কাজ শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইজিবাইকটিও উদ্ধার করা হয়।


 



তিনি আরও জানান, এ ঘটনার আগে থেকেই আরও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত চক্রটি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা শেষে রামু থানায় হস্তান্তর করা হবে।

এরআগে, গত ২৬ ফেব্রæয়ারী কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামু মরিচ্যা বিজিবি চেকপোস্টের হাজির বাড়ি এলাকার একটি ব্রিজের পাশ থেকে সকালে ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ ওয়ায়েজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার শরীরে অন্তত ১৮টি ছুরিকাঘাতের চিহ্নের কথা জানায় পুলিশ। এ ঘটনার দুইদিন পর নিহতের বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম রামু থানায় হত্যা মামলা করেন। তারপর এ হত্যাকান্ডের ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। গেল ১ মার্চ মঙ্গলবার ভোররাতে খুনের ঘটনায় হত্যার পরিকল্পনাকারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে ইজিবাইক চালক ওয়ায়েজ হত্যার রহস্য।

সেসময় গ্রেপ্তাররা হলেন, ওয়ায়েজের বন্ধু নুরুল ইসলাম প্রকাশ গুরাইয়া, আবু হেনা ওরফে হানিফ এবং রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হোসেন ও আরিফ হোসেন। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গুরাইয়া। এ ছাড়াও হোসেন ও আরিফ আন্ত:জেলা ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের সদস্য।

গুরাইয়ার বরাতে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক নিত্যনন্দ দাশ জানান, ‘তার পরিকল্পনায় ওয়ায়েজকে ঘটনাস্থলে নেয়া হয়। পরে বন্ধু হানিফ তাকে পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে। আর গুরাইয়া তাকে উপর্যপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। পরে তাকে ফেলে ইজিবাইকটি নিয়ে পরিকল্পনামতো মোহাম্মদ হোসেন ও আরিফ পালিয়ে যান। মরদেহ উদ্ধারের পর জানাজাতেও গিয়েছিলেন খুনিরা এমন তথ্যও বেরিয়ে আসে।

দৈনিক কক্সবাজার


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।