সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২

কক্সবাজারে আড়াই হাজার পর্যটকের নিরাপত্তায় ১ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ

 কক্সবাজার জার্নাল ::





এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরে পর্যটকে টইটম্বুর হবে সৈকত নগর কক্সবাজার। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চলতি বছর ঈদে পাঁচ লাখের অধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে এই শহরে। এত বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন মাত্র ২০৮ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য। প্রায় আড়াই হাজার পর্যটকের বিপরীতে মাত্র ১ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।


দেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এখন রমজান মাস তাই কক্সবাজারে তেমন কোনো পর্যটক নেই। তবে রমজান শেষ হলেই শুরু হবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল। আসবে লাখো পর্যটক।


২০১৩ সালে পর্যটকদের নিরাপত্তায় গঠন করা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশ। সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানরত সৈকত পুলিশ ফাঁড়ি ভেঙে যুক্ত করা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশে। তখন থেকে কক্সবাজার উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে ট্যুরিস্ট পুলিশকে একটি রিজিয়নে পরিণত করা হয়। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় জনবল। পরবর্তীতে আজকের ট্যুরিস্ট পুলিশ।


১২০ কিলোমিটার সমুদ্র ও বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সবসময় পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে। সৌন্দর্যে ভরা এই শহরে প্রতি পর্যটন মৌসুমে সরকারি ছুটি ও বিশেষ দিবসসহ প্রতিদিন লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে। লোকবল থেকে শুরু করে রয়েছে নানা অবকাঠামোগত সংকট। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চললেও এত অল্প সংখ্যক ট্যুরিস্ট পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে এবার প্রশ্ন তুলেছেন পর্যটকরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা।


ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, সমুদ্র সৈকত ছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে ৩৫টি পর্যটন স্পট। এসব পর্যটন স্পটের বেশির ভাগ এলাকায় নেই ট্যুরিস্ট পুলিশ। বিশেষ করে সোনাদিয়া, মহেশখালী, খুরুশকুল, হিমছড়ি এলাকা সবসময় পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু এসব পর্যটন স্পটে নেই ট্যুরিস্ট পুলিশ। নেই কোনো পুলিশের ফাঁড়ি কিংবা নিরাপত্তা চৌকি। ফলে এসব এলাকার পর্যটকরা সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন।


কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের রয়েছে জেটস্কি তিনটি, স্পিডবোট একটি, বিচ বাইক ১০টি, স্যান্ড সাপোর্ট দুটি, মোটরসাইকেল ২০টি, ট্রাক একটি, পিকআপ তিনটি, মাইক্রোবাস একটি ও জিপ একটি। দায়িত্ব পালন ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজে এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে ট্যুরিস্ট পুলিশ।


বর্তমানে কক্সবাজার শহরে ১৩৫, ইনানি সাবজোনে ১৮, টেকনাফ সাবজোনে ১৮, সেন্টমার্টিন সাবজোনে ২১ ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক সাবজোনে ১৬ জন ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তবে এর বাইরে একাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও সেখানে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের কার্যক্রম নেই।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।