মঙ্গলবার, ১৭ মে, ২০২২

আঘাতপ্রাপ্ত কোমর ও ভাঙ্গা হাত-পা নিয়ে প্রখর রোদে এক অসহায় নারীর আর্তনাদ





কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা এলাকার বাসিন্দা নাজমা আক্তার। ভালোবেসে নবী হোসেন নামের একজনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। সম্পর্ক করে বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়। আলাদা সংসার গড়ে তোলেন তারা। হঠাৎ তার স্বামী নবী হোসেনের লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে। তার এক ছেলেও রোগাক্রান্ত। ছেলে ও স্বামীর চিকিৎসার জন্য নিজের সবকিছু বিক্রি করে দেন নাজমা। তাতে কোনো ফল পাননি। উল্টো তাদের ঘরে নেমে আসে অভাব-অনাটন। সব হারিয়ে হয়ে পড়েন দিশেহারা।

একপর্যায়ে জীবনের তাড়নায় লোকলজ্জা ভুলে তিন মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে সৈকতে আচার বিক্রি শুরু করেন। গত ১০-১২ দিন ধরে তাকে সৈকতে ভ্যানে আমের আচার বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে তার এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আশপাশের মানুষের নানা মন্তব্য। এতে কান না দিয়ে আচার বিক্রি করে যাচ্ছেন নাজমা।

কথা হয় তার সঙ্গে। নাজমা বলেন, বিয়ের পর বেশ কয়েকবছর সুখের সংসার করেছি। এক কঠিন রোগ আমাদের সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে। আমি নিজেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছি। কোমরে আঘাত, এক পা ভাঙা। ওই পায়ে সার্জারি করে লাগানো রড রয়েছে, এক হাত ভাঙা। তবু কোনোমতে জীবন-জীবিকার তাগিদে সেই আঘাত প্রাপ্ত শরীর নিয়ে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি।

কথার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন, ভিক্ষা না করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আমার তিন মাসের শিশুকে নিয়ে আমের আচার বিক্রি করে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও আশপাশের মানুষ অশ্লীল ভাষায় মন্তব্য করছে। এটার চেয়ে দুঃখের আর কি হতে পারে একটা নারীর জীবনে।

নাজমা জানান, প্রতিদিন সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে আম বিক্রি থেকে ৩০০-৪০০ টাকা আয়-রোজগার হয়। এ টাকা দিয়ে স্বামী ও ছেলের ওষুধসহ কোনোমতে সংসার চলে।

কক্সবাজার সৈকতের ভ্রাম্যমাণ পান ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, মেয়েটা বোরকা পরে তিন মাসের শিশুকে নিয়ে সৈকতের বিভিন্ন জায়গায় আচার বিক্রি করে। মেয়েটি সুন্দর। তাকে অনেক সময় ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। আবার কেউ কেউ খারাপ মন্তব্য করে। এটি খুব দুঃখজনক। মেয়েটি সকাল থেকে কাঠফাটা রোদে দাঁড়িয়ে আচার বিক্রি করে।

সুগন্ধা পয়েন্টের ঝিনুক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, নাজমার স্বামী রোগে আক্রান্ত হাওয়ার পর থেকে তাদের সংসার এলোমেলো হয়ে যায়। ওষুধ খরচের জন্য নাজমার প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা খরচ হয়। যা তার আয়েও আসে না।

সম্প্রতি স্থানীয় এক সাংবাদিক নাজমার দুর্দশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। জীবনযুদ্ধে হার না মানা নাজমাকে ইভটিজিংকারীদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই সঙ্গে ইভটিজিংকারীদের শাস্তির দাবি ওঠে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।