শনিবার, ১৪ মে, ২০২২

ক্যাম্পে ইয়াবা ও মাদকসহ নানান অপরাধে জড়িত অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা







বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। ইয়াবা,মাদক সহ নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ড এখন কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দখলে। সাধারণ রোহিঙ্গারা এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে ভোগ করতে হয় কঠিন পরিনতি। তাই ভয়ে কেউ মূখ খুলতে সাহস পায়না।


সম্প্রতি উখিয়া বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েক রোহিঙ্গা নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় অনেকে এখন বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এসব কাজে জড়িত রয়েছে ক্যাম্পে অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গা। তাদের প্রত্যেকের আবার একেককটি গ্রুপ রয়েছে, যেসব গ্রুপে কয়েক’শ রোহিঙ্গা সম্পৃক্ত আছে।


ক্যাম্পে যত অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত হয়েছে

তৎমধ্যে শীর্ষ আরসা কমান্ডার আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির অন্যতম৷ তার ভাই মোঃ শাহ আলী ১৬ জানুয়ারী এপিবিএন পুলিশের হাতে মাদক ও অস্ত্রসহ আটক হয়ে বর্তমানে জেলে আছেন৷ তাদের অবর্তমানে যারা মাদক, ইযাবা, স্বর্ণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজী, নৈরাজ্যসহ বিভিন্ন অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তারা হলেন, কুতুপালং ১ডাব্লিউ ক্যাম্পে মোস্তফা, ক্যাম্প ৮ ডাব্লিউ’র হাফেজ আইয়ুব, ক্যাম্প ২ ডাব্লিউ’র মোঃ রফিক, ক্যাম্প ১ ই শফি আলম, ক্যাম্প ১ ডাব্লিউ’র জাহেদ হোসেন প্রকাশ লালু, ইয়াবা ডিলার খ্যাত মোঃ সিরাজ, ক্যাম্প ১৩ এর মৌলভী মোস্তফা, ক্যাম্প ৮ ডাব্লিউ’র ফয়েজুল কবির প্রকাশ আবু আনাস, আইয়ুব খান প্রকাশ প্রকাশ বদিউজ্জামা, ক্যাম্প ২ ডাব্লিউ’র নুরুল আমিন, হাফেজ রফিক, মৌলভী আমির হোসেন, ছৈয়দ আলম, হেড মাঝি দিদার, ক্যাম্প ১ ডাব্লিউর আব্দুর রহিম, ক্যাম্প ৬ এর কেফায়েত উল্লাহ প্রকাশ আব্দুর রহিম, নুর কামাল প্রকাশ ছমি উদ্দিন, ক্যাম্প ৮ ডাব্লিউ’র আবু বক্কর, ক্যাম্প ১ ই ফরিজুল্লাহ, ক্যাম্প ১২ এর লাল মোহাম্মদ, রহিম উল্লাহ, প্রকাশ মুছা, সো-হালী, ক্যাম্প ১১এর হামিদ হোসেন, ক্যাম্প ৯ এর মৌলভী সালেহ প্রকাশ আবু জোনাইদ, হামজা রশিদ, ক্যাম্প ৩এর হাফেজ মোহাম্মদ আলম, খাইরুল আমিন, ক্যাম্প ১ ই আব্দুর রহমান, ক্যাম্প ৮ ডাব্লিউ’র ফয়েজুল ইসলাম প্রকাশ আবু আহমদ, ক্যাম্প ১৪এর রেজুয়ান, রোহিঙ্গা নেতা আবুল কালাম হায়ছারী, মৌলভী মোস্তফা, বালুখালী ক্যাম্পে আবু বক্কর, মানুর মাঝি।



তাদের সাথে যোগসাজশ রয়েছে তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্ট অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নেতা দিল মোহাম্মদ ও মৌলভী আরফা আহমদ এর। এই দুই জনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে মাদক, স্বর্ণ, অস্ত্র নিয়ে এসে প্রথমে শূণ্য রেখার ক্যাম্পে মজুদ করে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ক্যাম্পে ঢুকে পড়ে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ।


অথচ তাদের অপরাধ আড়াল করতে সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে অন্যদের নাম ব্যবহার করে সংবাদ প্রচার করেছে, তারা কেউ এসব খারাপ কাজে জড়িত নয়। সংবাদে যেসমস্ত নিউজ পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল এবং আইপি টিভির কথা বলা হয়েছে তারও কোন সত্যতা নেই।


রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের কয়েকজন ইতিমধ্যে সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর হাতে আটক হয়ে বর্তমানে জেলে আছেন, তৎমধ্যে রোহিঙ্গা নেতা মাষ্টার মুহিবুল্লাহকে হত্যার জন্য ফতোয়া দেওয়া রোহিঙ্গাদের কথিত উগ্রপন্থী সংগঠন আরকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি আরসার ওলামা কাউন্সিলের প্রধান মৌলভী জাকারিয়া, জিয়াবুর রহমান, মৌলভী আনাস, সেরু মাঝি, একেরাম। কিছু দিন পূর্বে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবারো পুরোদমে মাদকসহ নানান অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আরসা নেতা সোলাইমান, ক্বারী মুহিববুল্লাহ, রহিম উল্লাহ এবং ছানা উল্লাহ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যত অপরাধ কর্মকান্ড সংঘটিত হচ্ছে এদের হাত ধরেই। সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে এদের নিয়ন্ত্রণ করা না হলে কঠিন পরিস্থিতির সম্মূখীন হতে হবে ক্যাম্প প্রশাসনকে।


রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইনশৃংখলারনিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ১৪ এপিবিএন’র অধিনায়ক (পুলিশ সুপার) নাঈমুল হক বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এপিবিএন কাজ করছে। পাশাপাশি ইয়াবা ও মাদক উদ্ধারে এপিবিএ’র অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।