রবিবার, ১২ জুন, ২০২২

কক্সবাজারে বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইকে মারধর: দুই বখাটে গ্রেপ্তার



 

কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে বখাটেদের হাত থেকে বোনকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইকে বেদম প্রহারের ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। সাঁড়াশি অভিযানে হামলাকারীদের দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে হামলার শিকার তরুণ-তরুণী ভাইবোন বলা হলেও তারা সহোদর নয়। আর মূল হামলাকারী জামাল ওই তরুণীর সাবেক প্রেমিক বলে দাবি করছে স্থানীয় কিছু লোকজন। তবে সম্পর্ক যাই হোক, এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক বলছেন সর্বস্তরের মানুষ। তারা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।


থানা সূত্রে জানা গেছে, রাতেই অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল হামলাকারী জামালকে ধরা যায়নি।


ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুইজন যুবক হাতের লাঠিসোঁটা নিয়ে নির্দয়ভাবে এক যুবককে পেটাচ্ছে। বোনের ইজ্জত রক্ষা করতে গিয়ে লাঠির সব আঘাত পড়ছে ভাইয়ের শরীরে। দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি মারধরে আব্দুল মোনাফের সারাশরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে যে কয়জন মানুষ দেখা যাচ্ছে তারাও উদ্ধারে এগিয়ে যায়নি।


মনুপাড়ার মোহাম্মদ জামাল, মো. রায়হান ও কুলিয়া পাড়ার আরমান ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।


ভুক্তভোগী তরুণী জানান, প্রতিদিন স্থানীয় কিছু বখাটে শ্রেণীর লোক তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বারবার একই ঘটনা হতে দেখে এগিয়ে যায় ভাই আব্দুল মুনাফ। কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটেচক্রের রোষানলে পড়লো ভাই। তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে মারধর করে ক্ষতবিক্ষত করেছে।


স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মুল অভিযুক্ত জামাল কিশোর গ্যাং লিডার। বাড়ি কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল মনুপাড়ায়। চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


গত ২৫ মে খুরুশকুল রাস্তার মাথা এলাকায় মো. লোকমান হাকিম আজাদ নামের যুবককে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল, মানিব্যাগসহ সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার নেতৃত্বেও ছিল এই জামাল।


কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, ঘটনাটি অবগত হওয়ার পর শনিবার (১১ জুন) রাতেই পুলিশের ২টি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে। এই ঘটনায় মামলা রুজু হচ্ছে। পলাতক জামালকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সুত্র, সিভয়েস


শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios:

ধন্যবাদ আপনার সচেতন মন্তব্যের জন্য।